বাইবেলের গল্প

যিরূশালেমে যীশু

প্রত্যেক বসন্তকালে উদ্ধার-পর্ব পালন করবার জন্য যীশু যিরূশালেমে যেতেন। সেখানে তাঁর শিক্ষা শুনবার জন্য লোকে ভিড় করত।

একজন গোপনে দেখা করলেন

নীকদীম একজন ধর্ম-শিক্ষক ছিলেন। তিনি যীশুর বিষয়ে অনেক কথাই শুনেছেন। তাই তিনি যীশুর সঙ্গে দেখা করবার জন্য রাতের অন্ধকারে তাঁর কাছে এলেন। তিনি চাইলেন না যে, অন্য লোকেরা তাকে দেখতে পায়।

নীকদীম বললেন, ‘আমরা জানি, আপনি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছেন। আপনি যেসব আশ্চর্য কাজ করেছেন ঈশ্বর সঙ্গে না থাকলে তা কেউ করতে পারে না।’
নীকদীমের মনে কি প্রশ্ন আছে যীশু তা জানতেন।
যীশু বললেন, ‘আপনি একজন বড় শিক্ষক কিন্তু এখনও আপনাকে আর একটু শিখতে হবে। আপনি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে চান, কিন্তু ধার্মিক হওয়াই কেবল আপনার পক্ষে যথেষ্ট নয়। ঈশ্বরের রাজ্যে আপনাকে যেতে হলে অবশ্যই নতুন করে জন্ম নিতে হবে।’
নীকদীম জিজ্ঞেস করলেন, ‘এর মানে কী?’

উত্তরে যীশু বললেন, আপনাকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে- অর্থাৎ নতুন জীবন পেতে হবে। সেই নতুন জীবন দিতেই আমি এসেছি। দেখুন, ঈশ্বর পৃথিবীকে এত ভালবাসলেন যে, তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে পাঠালেন, যেন যে কেউ তাঁর উপর বিশ্বাস করে তারা সবাই এই নতুন জীবন পায়।’
ঘরের বাইরে ছিল অন্ধকার, আর ঘরের ভিতরে বাতি আলো দিচ্ছিল।
যীশু বললেন, ‘ঈশ্বর হলেন যা পৃথিবীতে আলো দিচ্ছে। কিন্তু লোকেরা অন্ধকারে থাকতেই পছন্দ করে, কারণ যে লোক মন্দ কাজ করে আলো তার সেই মন্দ কাজ প্রকাশ করে দেয়।’
কুয়ার কাছে একজন মহিলা

কয়েকদিন পরে যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা যিরূশালেম থেকে গালীলে রওনা দিলেন। তাদের এই বড় যাত্রায় রৌদ্রের তাপে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। শমরিয়া প্রদেশে শূখর নামে ছোট্ট একটি শহরে পৌঁছানোর পর যীশুর শিষ্যেরা খাবার কিনতে বাজারে গেলেন। তখন বেলা দুপুর। যীশু একটি কুয়ার ধারে বসে বিশ্রাম করছিলেন। কুয়াটি ছিল বেশ গভীর। তাঁর তখন জলের পিপাসা পেল।
সেই সময় একজন শমরীয়া মহিলা সেই কুয়ার কাছে এল। তখনকার সময়ে যিহূদীরা শমরীয়দের সঙ্গে কথা বলত না, এমনকিম একে অন্যকে দেয়া খাবারও খেত না। তাই মহিলাটি খুবই আশ্চর্য হল যখন যীশু তার কাছে জল খেতে চাইলেন।

যীশু তাকে বললেন, ‘যদি আপনি জানতেন ঈশ্বর কি দিতে পারেন এবং আমি কে, তবে আপনি তাঁর কাছেই এমন জল চাইতেন যা জীবন দিতে পারে- যে জল খেলে আর কখনও পিপাসা পায় না।’
মহিলাটি উত্তরে বলল, ‘আমি তো সেই জলই চাই, তাহলে আমাকে আর এই কুয়ার কাছে আসতে হবে না। কিন্তু সেই জল কোথায়? আপনার কাছে তো কোন পাত্রও দেখছি না।’
যীশু বললেন, ‘আপনি আসলে বুঝতে পারেন নি। আমি এই সাধারণ জলের কথা বলি নি। আমি আপনাকে নতুন এক জীবনের কথা বলছি- যে জীবন দিতে আমি এসেছি।’
এর আগে তাদের আর কোথাও কোন দিন দেখা হয় নি। কিন্তু মহিলাটি বুঝতে পারল যে, যীশু তার জীবনের সব কথাই জানেন। যীশু যা বললেন তা শুনে সে এত খুশি হল যে, সে তার কলসী সেই কুয়ার পাশে রেখে গ্রামে সবাইকে সুখবর দেবার জন্য দৌড়ে গেল।

সে তাদের বলল, ‘আপনারা এসে এই লোকটিকে দেখুন। আপনাদের কি মনে হয় না যে, এই লোকটিই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা-করা রাজা?’
এরই মধ্যে যীশুর বন্ধুরা খাবার নিয়ে সেখানে ফিরে এসেছেন। তখন তারা দেখতে পেলেন শহর থেকে অনেক লোক তাদের দিকে ছুটে আসছে।
যীশু যখন লোকদের আসতে দেখলেন তখন তিনি শিষ্যদের বললেন, ‘জমির ফসল পেকে গেছে, এখন তা গোলায় জমা করার সময়।’
তিনি সেই শহরে দু’দিন রইলেন। সেখানকার লোকেরা যখন তাঁর বলা সুখবর শুনতে পেল তখন অনেক লোক বিশ্বাস করল যে, সত্যি তিনি ঈশ্বরের পাঠানো রাজা, যিনি এই পৃথিবীর লোকদের পাপ থেকে উদ্ধার করতে এসেছেন।

যোহন ৩-৪

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন