বাইবেলের গল্প

জ্ঞানী রাজা শলোমন

ইতিমথ্যে রাজা দায়ূদ খুবই বুড়ো ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দায়ূদের পরে কে রাজা হবে তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিল। অবশালেমের মৃত্যুর পরে, তার পরের জন্য আদেনিয় বলতে লাগল যে, সে-ই রাজ-সিংহাসনে বসবে।
কিন্তু দায়ূদের ছিল অন্য পরিকল্পনা। তিনি পুরোহিত সাদোক, নবী নাথন ও রক্ষীদলের সেনাপতি বনায়কে ডেকে পাঠালেন।
দায়ূদ তাদের বললেন, ‘আমার মৃত্যুর পর শালোমন রাজা হবে। তাই তাকে আমার গাধায় বসিয়ে গিহোনের ঝর্ণার কাছে নিয়ে যান এবং সাদোক ও নবী নাথন আপনারা শলোমনকে রাজা হিসেবে অভিষেক করুন। এরপর সকলে শিংগা বাজাবে এবং চিৎকার করে বলবে, “রাজা শালোমন দীর্ঘজীবী হোক।”
রাজা যেমন বলেছিলেন সাদোক, নাথন, বনায় ও রাজার রক্ষীদল তেমনি করলেন। শালোমনকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করা হল। শিংগা বাজান হল এবং সব লোক চিৎকার করে বলল, “রাজা শলোমন দীর্ঘজীবী হোক!”
এরপর তারা শহরে ফিরে এলেন। লোকেরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দে চিৎকার করতে লাগল।

দায়ূদ শলোমনকে তার শেষ আদেশ দিলেন। তিনি বললেন, ‘শক্তিশালী হও, ঈশ্বরকে অনুসরণ কর ও তার আদেশ পালন কর- তাতে সব কিছুতেই তোমার মঙ্গল হবে। যদি তুমি তাঁকে মান্য কর, তবে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আমার বংশধরই এই জাতিকে সব সময় শাসন করবে।’
পরে রাজা দায়ূদ মারা গেলেন। রাজা শলোমন রাজধানী থেকে, ঈশ্বরের শহর যিরূশালেমে থেকে রাজত্ব করতে লাগলেন। শলোমন ইস্রায়েল রাজ্যের উপর- একটি বড় শক্তিশালী রাজ্যের উপরে রাজত্ব করতে লাগলেন। তিনি তার বাবার মতই ঈশ্বরকে ভালবাসতেন ও ভয় করতেন।
একদিন রাতে ঈশ্বর স্বপ্নের মধ্য দিয়ে শলোমনের কাছে এলেন।
ঈশ্বর বললেন, ‘তুমি কি চাও? আমি তোমাকে কি দেব?

শলোমন বললেন, ‘আমি যুবক, আমাকে এই সব লোকদের শাসন করতে হবে। তাই দয় করে হে ঈশ্বর আমাকে জ্ঞান দেও যেন আমি ন্যায় বিচার করতে পারি এবং যা সঠিক তা-ই করতে পারি।’
শলোমন সুনাম বা ধন-সম্পদ না চেয়ে জ্ঞান চেয়েছেন বলে ঈশ্বর খুবই সন্তুষ্ট হলেন।
ঈশ্বর বললেন, ‘আমি সব মানুষের চেয়ে তোমাকে বেশী জ্ঞান দেব। এছাড়া, আমি তোমাকে সুনাম এবং ধন-সম্পদ সবই দেব।’
ঈশ্বর যেমন প্রতিজ্ঞা করেছেন তেমনি শলোমন জ্ঞানী হয়ে উঠলেন- পূর্ব দেশের সব জ্ঞানী লোকদের চেয়েও জ্ঞানী হলেন- মিসরের সব জ্ঞানী লোকদের চেয়েও তিনি জ্ঞানী হলেন।
রাজা শলোমন তিন হাজার হিতোপদেশ রচনা করলেন! *কিন্তু তিনি ভুলে যান নি যে, এই উপদেশ ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। এই জ্ঞান শুধুমাত্র বুদ্ধিমান হবার জন্য নয়। কোন লোকই সত্যিকারের জ্ঞানী হতে পারে না যদি সে ঈশ্বরকে সম্মান না করে এবং তার আদেশের বাধ্য না হয়।

শিবা দেশের রাণী

শলোমের সুনাম অনেক দূর দেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। ব্যবসায়ীরা তার জ্ঞানের কাহিনী সেই মরু-এলাকা ছাড়িয়ে শিবা দেশ পর্যন্ত নিয়ে গেল। রাজা শালোমন সম্বন্ধে লোকেরা যা বলতে শিবার রাণী আসলে তা বিশ্বাস করতেন না, তাই তিনি নিজেই দেখতে চাইলেন সেই রাজা কেমন!
*বাইবলের হিতোপদেশ বইটিতে পাওয়া যায়।
তিনি অনেক কঠিন প্রশ্নের তালিকা তৈরী করলেন রাজাকে পরীক্ষা করবার জন্য। তারপর তিনি তার দাস-দাসী নিয়ে একটি লম্বা যাত্রার আয়োজন করলেন। তাদের সঙ্গে উটের পিঠে করে মূল্যবান সব মসলা, গহনা ও সোনা নিয়ে আসলেন।

যিরূশালেমের লোকেরা বিদেশী পর্যটক দেখতে অভ্যস্ত ছিল। কিন্তু যখন শিবার রাণী এলেন তখন তারা অবাক হয়ে তাকে দেখতে লাগল!
রাণীকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি রাজাকে তার তালিকা দেখে খুব কঠিন কঠিন প্রশ্ন করতে লাগলেন। রাজা শলোমন তার সব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন! এরপর রাণীকে রাজ প্রাসাদ ঘুরিয়ে দেখান হল। রাজা বাড়ীতে তার উদ্দেশ্যে এক মহভোজ দেওয়া হল। রাণী দরবারের লোক ও তাদের সাজ-পোষাক দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন!
তিনি রাজাকে বললেন, ‘আপনার সম্বন্ধে লোকে যা বলেছে আমি তা বিশ্বাস করি নি কিন্তু এখন আমি নিজেই দেখলাম। ঈশ্বর তাঁর লোকদের একজন জ্ঞানী রাজা দিয়েছেন কারণ তিনি তাদের ভালবাসেন।
তিনি যেসব উপহার সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তা রাজা শলোমনকে দিলেন। রাজা শলোমনও তাকে অনেক অনেক উপহার দিলেন। এরপর শিবার রাণী ও তার লোকেরা শিবা দেশে ফিরে গেলেন।

১ রাজাবলি ৩, ৪, ১০

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রাইষ্টবিডি রেডিও