জেলখানা ও ভেঙে যাওয়া জাহাজ (পৌল)

পৌল যিরূশালেমে এসেছেন বেশী দিন হয় নি, কিন্তু এরই মধ্যে পৌলকে নিয়ে আরেকটি হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। যিহূদীরা ভেবেছিল তিনি তার অযিহূদী বন্ধুদের নিয়ে মন্দিরে ঢুকছেন। (এটা কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ছিল)। ঠিক সেই সময় রোমীয় সৈন্যরা এসে পৌলকে যিহূদীদের হাত থেকে বাঁচাল।

জেলখানাতেও পৌলের জীবন নিরাপদ ছিল না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে লাগল। তাই তাকে কৈসরিয়াতে নিয়ে যাওয়া হল। যিহূদীরা সেখানে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। সেখানে রোমীয় শাসনকর্তা ফিলিক্স তার কথা শুনলেন কিন্তু তিনি কোন বিচারের আদেশ দিলেন না। দু’বছর পরে ফিলিক্সের জায়গায় যখন ফিষ্ট শাসনকর্তা হলেন তখনও পৌল সেখানকার জেলে ছিলেন।

ফীষ্ট বললেন, ‘আপনি কি বিচারের জন্য যিরূশালেমে যেতে চান?’
পৌল ছিলেন একজন রোমীয় নাগরিক। তাই সম্রাটের কাছে তার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল।
পৌল বললেন, ‘না, আমি যিরূশালেম যাব না। আমি সম্রাটের কছে আপিল করি।’
উত্তরে ফীষ্ট বললেন, ‘তবে আমি আপনাকে রোমে পাঠিয়ে দেব।’

পৌল রোমে

যখন রোমের উদ্দেশ্যে তাদের জাহাজ ছেড়ে গেল তখন সময়টা ছিল সেপ্টেম্বর মাস। জুলিয়াস নামে একজন রোমীয় সেনাপতি পৌল ও অন্যান্য বন্দিদের নিয়ে যাচ্ছিল। ক্রীট দ্বীপের পর জাহাজ আর ঠিক পথে চালানো যাচ্ছিল না এটা উল্টা পথে চলছিল। সাগরে তখন প্রচন্ড ঢেউ। তাই জাহাজের পালগুলো সব নামিয়ে ফেলে বাতাসের কাছেই জাহাজকে ছেড়ে দেওয়া হল। পরের দিন জাহাজের ওজন কমানোর জন্য তারা জাহাজের অনেক মালপত্র ও সাজ-সরঞ্জাম ফেলে দিল। এভাবে চৌদ্দ দিন পার হয়ে গেল। এরমধ্যে তারা সূর্যের আলো বা আকাশের তারা দেখতে পেল না। তাই তারা জানত না যে, তারা কোথায় আছে। তারপর একদিন রাতে নাবিকরা বুঝতে পারল যে, তারা কোন এক শুকনা জায়গার কাছে এসে পড়েছে। পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে জাহাজ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা তাদের সব নোঙ্গর সেখানে ফেলে দিল। খুব ভোরে কিছু খাওয়ার জন্য পৌল তাদের সবাইকে উৎসাহ দিলেন।

তিনি বললেন, ‘এই জাহাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের জীবন রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন।’
দিনের আলো দেখা দিলে পর তারা জাহাজটিকে একটি বালুর চরে উঠিয়ে দিল আর ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটির পিছন দিক ভেংগে যেতে লাগল। তখন সৈন্যরা তাদের বন্দিদের মেরে ফেলতে চাইল কিন্তু তাদের সেনাপতি জলিয়াস তা করতে দিল না। সে পৌলের জীবন রক্ষা করতে চাইল। যারা সাঁতার জানে তাদেরকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে, আর বাকীরা ভাঙা জাহাজের টুকরা ধরে তাদের পিছনে পিছনে যেতে আদেশ দেওয়া হল। এতে সবাই নিরাপদে তীরে গিয়ে উঠল। পরে তারা বুঝতে পারল যে, তারা মাল্টা দ্বীপে এসেছে!

বসন্তকাল না আসা পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হল। সময়টা তাদের সেখানে ভালই কাটল। এরপর পৌল রোমে এসে পৌঁছালেন। যারা পৌলকে দেখতে আসত তাদের সকলকেই তিনি স্বাগতম জানাতেন। তিনি তাদের কাছে যীশুর সুখবরের বিষয়ে শিক্ষা দিতেন।

যীশুর সুখবর যিরূশালেম থেকে অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সুখবর সিরিয়া দেশের আন্তিয়খিয়া থেকে শুরু করে গ্রীস ও রোমেও ছড়িয়ে পড়েছিল। রোম সাম্রাজ্যের সব জায়গায় খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে সুখবর তাদের বন্ধুদের কাছে প্রচার করেছিল। পৌলের মতই তারা তাদের বিশ্বাসের জন্য অত্যাচার সহ্য করত, এমনকি, মৃত্যুও বরণ করত।

এর পরে কি ঘটেছিল তা আরেক কাহিনী- এই দু’হাজার বছর ধরে সেই সুখবর সারা পৃথিবীতে প্রচার হচ্ছে। এখনও তা শেষ হয় নি। কিন্তু যীশু যখন ফিরে আসবেন তখন এই কাজ শেষ হবে। তখন নতুন পৃথিবী ও নতুন স্বর্গ সৃষ্টি করা হবে আর স্বর্গের ঈশ্বর পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে চিরকাল বাস করবেন।

প্রেরিত ২১-২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

নতুন লেখা

গাহি যীশুর জয়

১। গাহি যীশুর জয়, সবে যীশুর জয়- আনন্দে গাই সবে যীশুর জয়। ধূয়াঃ বল হাল্লেলুয়া, বল হাল্লেলুয়া - হাল্লেলুয়া,বল হাল্লেলুয়া। ২। দেখ ঈশ-নন্দন...

যখন প্রিয় যীশু দিলেন

যখন প্রিয় যীশু দিলেন প্রাণ, সাতটি কথা তখন বলে যান, প্রিয়জনের মরণ- কথা, ভাই, স্মরণ ক’রে কেমন দুঃখ পাই। ১। যখন লোকে তাঁর...

অপূর্ব প্রেমে প্রভু

অপূর্ব প্রেমে প্রভু এ জগৎ মাতালে, তুমি প্রেম-বলে,ধরাতলে বিজয়ী হইলে। ১। তুমি প্রেম ক’রে (যীশু হে, ও আমার দয়াল যীশু) তুমি প্রেম ক’রে...

ক্রুশ যাহার সুপরিচয়

ক্রুশ যাহার সুপরিচয় সত্য সাধন সার; প্রেমের যীশু ত্যাগের গুরু বন্ধু এ যাত্রার। ১। অঙ্গে যাহার রিক্ত পথিা চির দৈন্য বেশ- দীনের...

ধন্য পরম আরাধ্য যীশু

ধন্য পরম আরাধ্য যীশু , সত্য সনাতন, ঈশ্বর-নন্দন,পতিত-পাবন। ১ । সৃষ্টির পূর্বে ছিলে অনাদিকালে, বাক্য-ব্রহ্মরূপে পিতার কোলে; তুমি স্বয়ং ঈশ্বর,তুমি নিত্য পরাৎপর, তুমি নিখিল...

কত অপরুপ কার্য

কত অপরুপ কার্য, যীশু কৈলেন এ জগতে। স্ররষ্টা হয়ে সৃষ্টারুপে, অবতার নর- দেহেতে। ১। অন্ধ-খঞ্জ-নুলা যত, আর যত ভূতাশ্রিত, কুষ্ঠ রোগী কত...

আপনার ভাল লাগতে পারেএকই লেখা
আপনার জন্য লেখা