বাইবেলের গল্প

পিতর ও কর্ণীলিয়

এদিকে পুরোহিতদের অত্যাচারে যারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল পিতর তাদের কাছে গিয়ে দেখাশুনা করতে লাগলেন। তিনি যখন যীশুর বিষয়ে কথা বলতেন তখন লোকেরা তা শুনতে চাইত। পিতর এক সময় যাফো বন্দরে সমুদ্রের কাছেই শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়ীতে বাস করতেন।
এর কয়েক মাইল দূরে কৈসরিয়াতে কর্ণীলিয় নামে এক লোকের বাড়ী ছিল। তিনি রোমীয় সৈন্যদলের- ইতালীয় সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। কর্ণীলিয় যিহূদীদের ও তাদের ঈশ্বরকে ভালবাসতেন। রোমের দেব-দেবতাদের পূজারীদের থেকে তিনি ছিলেন আলাদা! তিনি নানাভাবে গরীব লোকদের সাহায্য করতেন। তিনি প্রতিদিন প্রার্থনা করতেন। কিন্তু তিনি যিহুদী ছিলেন না। তিনি কোন দিনই ভাবে নি যে, তিনি একদিন ঈশ্বরের লোকদের একজন হবেন।

তারপর একদিন বিকালে একজন স্বর্গদূত তার কাছে এসে তাকে বললেন:
‘ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা শুনেছেন। যাফোতে পিতর নামে একজন লোক থাকে। তাকে ডেকে আন। ঈশ্বর চান যেন তুমি তার কথা শোন।’ পিতরকে কোথায় পাওয়া যাবে স্বর্গদূত তাকে তা ভালভাবে বলে দিলেন।
পরদিন দুপুরে পিতর শিমোনের বাড়ীর ছাদে বসে প্রার্থনা করছিলেন। ছাদের উপরে যে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেজন্য তিনি খুশি হয়েছিলেন। দুপুরে যে রান্না হচ্ছিল সেই গন্ধ তার নাকে আসছিল এবং ইতিমধ্যে তার খুব খিদে পেল। প্রার্থনা করতে করতে চোখে একটু তন্দ্রা নেমে এসেছিল। তখন তিনি দেখলেন: কেউ একটি বড় চাদরের মত একটা জিনিসের চার কোণা ধরে নামিয়ে দিচ্ছে।
এর মধ্যে আছে সবরকম পশু ও পাখী। কয়েকটা শুচি আবার কয়েকটা অশুচি যা যিহুদীরা খায় না, কারণ তা খেতে ঈশ্বরের আইন-কানুনে নিষেধ করা হয়েছে।
তখন একটি কন্ঠস্বর বলল, ‘পিতর, উঠ, মেরে খাও।’
পিতর বললেন, ‘না, আমি তা খেতে পারি না কারণ ওখানে অনেক অশুচি জীব আছে।’
কিন্তু স্বরটি বললেন, ‘ঈশ্বর যা শুচি করেছেন তাকে তুমি অশুচি বলো না।’
এরকম তিন বার হল। তখন পিতর বুঝতে পারলেন যে, এটি ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি শিক্ষা। কিন্তু এর মানে কি?
ঠিক সেই সময় কর্ণীলিয়ের পাঠানো লোকেরা দরজায় শব্দ করল। যখন তাদের সঙ্গে পিতরের সাক্ষাৎ হল তখন তিনি ঈশ্বরের শিক্ষা বুঝতে পারলেন যে, যীশুর সুখবর শুধুমাত্র যিহূদীদের জন্যই নয়। এই সুখবর সমস্ত জাতির জন্য।

এদিকে কর্ণীলিয় পিতরের কথা শুনবার জন্য তার বন্ধু-বান্ধবদের ও প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ জানালেন।
পিতর বললেন, ‘আপনারা কোন দেশ থেকে বা কোন জাতির লোক তা কোন বিষয় নয়। ঈশ্বর সকলকে সমান চোখে দেখেন’। তিনি সেখানে যীশুর বিষয়ে সুখবর প্রচার করলেন।
যখন পিতর তার কথা বলা শেষ করলেন তখন ঈশ্বর তাঁর আত্মা সেখানে পাঠালেন। পঞ্চাশত্তমীর দিনে যা ঘটেছিল সেখানেও একই ঘটনা ঘটল।
এটি হেরোদ রাজা যাকোবকে বন্দি ও হত্যা করার বেশী দিন পরের ঘটনা নয়। এরপর তিনি পিতরকেও বন্দি করলেন। খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা পিতরের জন্য প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে পালানোর কোন পথ ছিল না। তার হাত ছিল শিকলে বাঁধা ও তিনি দু’জন পাহারাদারের মাঝখানে ঘুমাতেন।
কিন্তু এক রাতে ঈশ্বরের স্বর্গদূত পিতরের কামরায় এসে তাকে ঘুম থেকে জাগালেন। তখন তার হাতের শিকলগুলো খুলে গেল।
স্বর্গদূত বললেন, ‘তোমার বেল্ট পড়, জামা ও জুতা পর এবং আমার সঙ্গে এস।’
পিতর ভাবছিলেন যে, এটি একটি স্বপ্ন!

তারা গার্ডদের ফেলে সামনে এগিয়ে গেলেন। এখন তাদের সামনে সদর দরজা। তাদের জন্য দরজাটি এমনি এমনি খুলে গেল। তারা সেখান দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। এরপর পিতর নিজেকে জেলের বাইরে একটি রাস্তায় দেখতে পেলেন। সেখানে স্বর্গদূত হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেলেন। কিন্তু একটি ঠান্ডা বাতাসের দরুন তিনি কাঁপতে লাগলেন।
তিনি বুঝতে পারলেন, এটি সত্যি ঘটনা! ঈশ্বর তাকে মুক্ত করবার জন্য তাঁর দূত পাঠিয়েছিলেন! তখন তিনি তাড়াতাড়ি করে জন-মার্কের মা মরিয়মের বাড়ীতে গেলেন।
খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা সেখানে ঘরের ভিতরে বসে পিতরের জন্য প্রার্থনা করছিলেন।
পিতর দরজায় শব্দ করলেন।

রোদা নামে একজন কাজের মেয়ে দরজা খুলতে এল। সে পিতরের গলার আওয়াজ চিনতে পারল- কিন্তু সে আনন্দে পিতরকে বাইরে রেখেই আবার ভিতরে গিয়ে সবাইকে খবর দিল।
প্রথমে তারা ভাবল যে, মেয়েটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু পিতর দরজায় শব্দ করতেই থাকলেন। শেষে তারা দরজা খুলে পিতরকে ভিতরে নিলেন। পিতর তাদের সব ঘটনা খুলে বললেন।
পরের দিন সকালে, জেলখানায় কেমন করে কি ঘটেছে তা গার্ডরা কিছুই বুঝতে পারল না। এসব শুনে হেরোদ ভীষণ রেগে গেলেন। যখন কেউ আর পিতরকে খুঁজে পেল না তখন তিনি সেই গার্ডদের মেরে ফেললেন।

প্রেরিত ১০, ১২

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন