বাইবেলের গল্প

ঘরের বাইরে শিক্ষাদান

বিশ্রামবারে যীশু সমাজ-গৃহে গিয়ে শিক্ষা দিতেন। কিন্তু বেশীর ভাগ সময়েই তিনি বাইরে গিয়ে শিক্ষা দিতেন। (ইস্রায়েল দেশে গ্রীষ্মকাল অনেক বড়, তখন গরম ও সব জায়গা শুকনা থাকে)। গালীল সাগরের চারদিকে পাহাড়ের উপরে অনেক জায়গা ছিল যেখানে যীশুর শিক্ষা শুনবার জন্য অনেক লোক একসঙ্গে জড়ো হতে পারত। তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সবুজ ঘাসের উপর বসতেন আর তারা তাঁর শিক্ষা শুনতেন।
সুখী করা এই বিষয়ে তিনি শিক্ষা দিলেন।
তিনি বললেন, ‘ আপনারা ভাবেন যে, ধনীরা খুবই সুখী। কারণ তারা যা চায় তা সবই তাদের আছে। কিন্তু আপনাদের চিন্তা ভুল।’
তিনি তাঁর শিষ্যদের দিকে তাকালেন। তারা কত গরীব। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষুধার্ত। কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যের লোক হিসাবে তাদের একদিন সবকিছুই থাকবে।
যীশু বললেন, ‘আপনারা যারা গরীব, আপনারা ধন্য, কারণ ঈশ্বরের রাজ্য আপনাদেরই জন্যই।
‘আপনাদের এখন যাদের খিদে আছে, আপনারা ধন্য, কারণ আপনাদের খাবার দেওয়া হবে।
‘আপনারা এখন যারা কাঁদছেন, আপনার ধন্য, কারণ আপনারা হাসবেন।
‘আপনারা ধন্য, যখন লোকেরা আমার বন্ধু বলে আপনাদের ঘৃণা ও ত্যাগ করে, কারন স্বর্গে আপনাদের জন্য বড় পুরস্কার অপেক্ষা করছে।’
যীশু দেখতে পেলেন যে, লোকেরা তাঁর কথায় বেশ আশ্চর্য হচ্ছে। তাই তিনি বলতেই থাকলেন:
‘আপনারা অনেক টাকা পাবার চেষ্টা করবেন না বা অনেক কিছু কিনতে চাইবেন না। কারণ কেউ না কেউ তা চুরি করতে চাইবে। আপনারা ঈশ্বরের কাছে আপনাদের ধন জমা করুন, যেখান থেকে কেউ তা চুরি করতে পারবে না। আপনাদেরই বিষয়টি বেছে নিতে হবে। আপনি কি ধনী হবার জন্য আপনার জীবন ব্যয় করবেন, নাকি ঈশ্বর যা চান তাই করবেন? আপনি এর দু’টি জিনিসই এক সঙ্গে করতে পারেন না।’
‘আপনারা সবাই যেন খুব চিন্তিত। আপনারা কি খাবেন বা কি পরবেন বলে চিন্তা করছেন। কিন্তু জীবনটা খাওয়া ও পরার চেয়ে আরও অনেক বড়। আপনাদের মাথার উপর দিয়ে যে পাখী উড়ে যায় তাদের দিকে চেয়ে দেখুন। ঈশ্বর তাদের যত্ন নিয়ে থাকেন- তিনি আপনাদের বিষয়ে আরও অনেক বেশী চিন্তা করেন!
‘আপনাদের চারপাশে একটু তাকান। দেখুন, ঈশ্বর বনের ফুলগুলোকে কেমন সুন্দর করে সাজিয়েছেন! এহান রাজা শলোমন কি নিজেকে এত সুন্দর করে সাজাতে পেরেছেন? তাই আপনারা জীবনটাকে চিন্তা করে কাটিয়ে দিয়েন না। ঈশ্বর যা চান তা আপনারা করতে থাকুন এবং তিনি আপনাদের জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা দেবেন। আপনারা তাঁর উপর নির্ভর করতে পারেন।’

উচ্চ মানের জীবন যাপন

যীশু শিক্ষা দিতে গিয়ে নানা ছবি ও শব্দ ব্যবহার করতেন যেন লোকেরা তাঁর শিক্ষা বুঝতে পারে।
তিনি একবার বললেন, ‘আপনারা লবনের মত। লবন আপনাদের স্বাদ দেয় ও খাবার পচে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ঈশ্বরের পৃথিবী নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে আপনারা তা রক্ষা করবেন এবং এটি স্বাদযুক্ত করে তুলবেন!

‘আপনারা বাতির মত। অন্ধকারের মধ্যে আপনাদের আলো জ্বালাতে হবে। লোকেরা যখন আপনাদের দয়ার কাজ দেখতে পাবে তখন তারা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেবে।’
ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কেমন জীবন যাপন আশা করেন, তিনি সেই বিষয়ে শিক্ষা দেন।

তিনি বললেন, ‘আপনাদের কাছে ঈশ্বরের আইন-কানুন আছে কিন্তু আপনারা সব সময়ই তা সহজ করতে চাইছেন। কিন্তু ঈশ্বর একটি উচ্চ মান ঠিক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, কাউকে খুন করবে না এবং তাঁকে মান্য করবে। কিন্তু আপনারা যখন রাগ করেন- এত বেশী রাগ করে ফেলেন যে পারলে একজনকে খুন করতে চান। এটাও অন্যায়।

‘আপনারা মনে করে থাকেন যে, লোকেরা যখন আপনাদের কষ্ট দেয় তখন আপনাদেরও তাদের কষ্ট দেওয়া উচিত, যেমন- চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত। কিন্তু ঈশ্বর চান যে, আপনারা শত্রুদেরও ভালবাসেন। তাদের অন্যায়ের বদলে আপনাদের ভাল কাজ দিয়ে তার জবাব দিন। ‘ঈশ্বরের পথে চলা সহজ নয়। এটা কঠিন পথ এবং ঢোকার পথ খুব সরু। কিন্তু আপনাদেরকে অবশ্যই সরু পথ দিয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে।’

যীশু প্রার্থনা শিক্ষা দিলেন

এরপর যীশু দান করার বিষয়ে শিক্ষা দিলেন।
‘আপনারা যখন লোককে সাহায্য করনে, তা তাউকে কিছু বলার দরকার নেই বা সেই বিষয়ে গর্ব করতে নেই।

যীশু বললেন, ‘লোক দেখানো প্রার্থনা করতে নেই। একটি নীরব জায়গা খুঁজে নিন। ঈশ্বরকে পিতা জেনেই তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। তাঁর কাছে একই জিনিস বারে বারে বলার দরকার নেই। তিনি আপনাদের সব প্রয়োজন জানেন।
‘আপনারা যখন প্রার্থনা করেন তখন এভাবে প্রার্থনা করবেন:

“আমাদের স্বর্গের পিতা,
তোমার নামের গৌরব হোক,
তোমার রাজ্য আসুক,
তোমার ইচ্ছা স্বর্গে যেমন তেমনি পৃথিবীতে হোক,
আমাদের ভাইবোনেরা আমাদের প্রতি অন্যায় করলে আমরা যেমন তাদের ক্ষমা করি তেমনি তুমি আমাদের ক্ষমা করো,
আমাদের পরীক্ষায় এনো না,
কিন্তু শয়তানের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো।”

যীশু বললেন, ‘চেয়ে দেখুন, আপনাদের দেওয়া হবে; খোঁজ করুন, অবশ্যই পাবেন।’

দু’রকম ঘর নির্মাতা

যীশু অনেকদিন ধরেই লোকদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি একটি গল্প দিয়ে তাঁর শিক্ষা শেষ করলেন।
‘একসময় দু’জন লোক তাদের নিজেদের জন্য ঘর বানাবে বলে ঠিক করল। এদের একজন ছিল বুদ্ধিমান এবং অন্যজন বোকা।
‘বুদ্ধিমান লোকটি শক্ত পাথরের উপরে তার ঘর বানাল। এরপর বৃষ্টি এল, বন্যা হল ও পরে ঝড় বয়ে গেল। কিন্তু সেই ঘর তখনও শক্তভাবে দাঁড়িয়ে রইল কারণ তা পাথরের উপর তৈরী করা হয়েছিল। আমি যা বল আপনারা যদি তা মেনে চলেন তবে তোমরা সেই লোকের মত যে পাথরের উপর ঘর বানিয়েছে।
‘বোকা লোক ঘর বানাল বালুর উপর। বালু খোড়া খুব সহজ! কিন্তু যখন বৃষ্টি এল, বন্যা হল, পরে ঝড় বয়ে গেল তখন তার ঘর একেবারে ভেঙ্গে গেল। আমি যা যা আপনাদের বলেছি আপনারা যদি তা পালন না করেন তবে আপনারা হবেন সেই বোকা লোকের মত।

মথি ৫-৭

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন