বাইবেলের গল্প

যোশিয়ের আবিষ্কার

রাজা হিষ্কিয়ের পরে যিনি রাজা হলেন তিনি রাজ্যের সব ভাল ভাল জিনিস নষ্ট করে ফেললেন। লোকেরা আবারও মূর্তি তৈরী করে পূজা করতে লাগল। এমনকি, তারা তাদের ছোট ছেলেমেয়েদের হত্যা করে এই সব দেবদেবীর কাছে উৎসর্গ করত। তারা যাদুবিদ্যা করত এবং সূর্য, চাঁদ ও তারার পূজা করত।
যিহূদার লোকেরা ইস্রায়েলের মন্দ বিষয়গুলোই অনুসরণ করতে থাকে। যিহূদা খুব তাড়াতাড়িই ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু সেখানে যোশিয় নামে একজন রাজা ঈশ্বরের বাধ্য ছিলেন।

সেই সময় যোশিয় মাত্র বালক ছেলে। তিনি যোষাসের মতই অল্প বয়সে রাজা হয়েছিলেন। তার বয়স যখন মাত্র ছাব্বিশ বছর তখন তিনি তার লোকদের মন্দির মেরামত করতে আদেশ করেন। যারা কাজ করছিল তারা মন্দিরের মেঝের নীচে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরানো বই খুঁজে পায়। পুরোহিত হিল্কিয় সেই বইটি রাজার লেখকের কাছে দিলেন এবং তিনি সেই বই থেকে জোরে জোরে রাজাকে পড়ে শোনালেন। যোশিয় তা শুনে দুঃখে তার নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন।
তিনি বললেন, ‘এই বই হল ঈশ্বরের আইন-কানুন। এটি বছরের পর বছর ধরে মাটির নীচে পড়ে ছিল। আমরা ঈশ্বরের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা আমরা ভঙ্গ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি কি করতে চান তা অবশ্যই আমাদের জানা উচিত।’

মহাযাজক হিল্কিয় বললেন, ‘আসুন আমরা হূলদাকে তা জিজ্ঞেস করি।’
হূলদা ছিলেন ঈশ্বরের একজন মহিলা-নবী এবং তিনি তার জ্ঞনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তারা তাড়াতাড়ি তার বাড়ীতে গেল।
তারা তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘এর অর্থ কি? আমরা এখন কি করব?’
হূলদা উত্তরে বললেন, ‘ঈশ্বর বলেছেন, “আমার লোকেরা আমাকে মান্য করেনি। তারা মূর্তিপূজা করেছে। তারা অবশ্যই শাস্তি পাবে। কিন্তু যেহেতু রাজা আমার প্রতি বিশ্বস্ত সেইজন্য আমি তার জীবনকালে সেই শাস্তি দেব না” ’।
রাজা যোশিয় সব বুড়ো নেতাদের ডেকে পাঠালেন। তারা এসে মন্দিরের বাইরে জড়ো হলেন। তিনি তাদের কাছে জোরে জোরে ঈশ্বরের আইন-কানুন পড়ে শোনালেন। তখন তারা সবাই ঈশ্বরের আদেশ মান্য করে চলবে বলে প্রতিজ্ঞা করল।

এরপর যোশিয় একটি সংস্কার করার কাজ শুরু করলেন। যেসব লোকেরা বালদেবতা ও অন্যান্য দেবতার পূজা করত তাদের সমস্ত মূর্তি দেশ থেকে দূর করার জন্য কাজ শুরু করলেন।
তিনি কাঠের তৈরী সব মূর্তি পুড়িয়ে দিলেন এবং তিনি দেবতাদের ও মন্দ-আত্মাদের সব বেদি ভেঙ্ড়ে টুকরা টুকরা করে ফেললেন।
তিনি হিন্নোম উপত্যকার পূজার জায়গা, যেখানে লোকেরা আগুনে পুড়িয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের মোলক দেবতার কাছে উৎসর্গ করত, সেই জায়গাও ধ্বংস করে দিলেন।
সূর্য দেবতার জন্য যে রথ ব্যবহার করা হত তাও তিনি ধ্বংস করে দিলেন। সমস্ত যিহূদা রাজ্যে যেসব জায়গায় যিহূদার রাজারা মূর্তিপূজার মন্দির তৈরী করেছিলেন যোশিয় তাও ধ্বংস করে দিলেন। তিনি বালদেবতার পুরোহিত, জাদুকর ও ভূতুরিয়াদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলেন।
যোশিয় বললেন, ‘ঈশ্বরের লোকেরা যখন মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসবার পর নিস্তার-পর্ব পালন করেছিল তেমনি এখন আমরা নিস্তার-পর্ব পালন করতে পারি।’
তারা এত জাক্জমকের সাথে নিস্তার-পর্ব পালন করল যে, শত শত বছর ধরেও সেভাবে তা পালন করা হয় নি। হাজার হাজার ভেড়া, ছাগল ও গরু জবাই করে আগুনে সেঁকে খাবার জন্য তৈরী করা হল। প্রতিটি পরিবারের সবাই এক সংগে ভোজ খেল।

এই উৎসব সাত দিন ধরে চলল। লোকেরা সবাই সদাপ্রভু ঈশ্বরের উপাসনা করল।
রাজা যোশিয় তার সমস্ত হৃদয় দিয়েই ঈশ্বরকে ভালবাসতেন। যিহূদায় তার মত এত ভাল রাজা তার আগে ও পরে আর কখনও হয় নি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যোশিয় যখন যুদ্ধে মারা যান তারপরেই লোকেরা আবার বিপথে গেল, তারা আবার তাদের পুরানো পথে চলতে লাগল। রাজা যোশিয় যা করতে পেরেছিলেন তা হল এই- যে শাস্তি তাদের উপর আসতেছিল তা কিছুটা দেরীতে আসতে সাহায্য করেছিলেন।

২ রাজাবলি ২২-২৩

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রাইষ্টবিডি রেডিও