বাইবেলের গল্প

যোনা – পালিয়ে গেলেন যিনি

সাধারণত যারা নবী ঈশ্বর তাদেরকে যা বলেন তা তারা করে থাকেন। কিন্তু যোনা ছিলেন তা থেকে ভিন্ন।
ঈশ্বর যোনাকে বললেন, ‘নীনবী শহরে যাও, লোকদের বল যে, আমি তাদের সমস্ত পাপের কথা জানি। আর চল্লিশ দিন পরে নীনবী শহর ধ্বংস হয়ে যাবে।’
তখন নীনবী শহর ছিল আসিরিয়ার রাজধানী। আর আসিরিয়েরা ছিল ঈশ্বরের লোকদের শত্রু। তাই যোনা নীনবী শহরের লোকদের বলতে চাইলেন না যে, ঈশ্বর আর কিছুদিন পরেই এই শহর ধ্বংস করে ফেলবেন!
তিনি ভাবলেন, ‘ঈশ্বর প্রেমময়। তিনি লোকদের ক্ষমা করনে। তিনি তাদের দ্বিতীয় একটি সুযোগ দেবেন। তিনি হয়তো নীনবী ধ্বংস করবেন না। আর তা না করলে আমি তাদের কাছে বোকা হয়ে যাবে।’
তাই যোনা পালালেন- নীনবীতে নয়, যাফো বন্দরের জাহাজে উঠে তিনি স্পেনে চলে যেতে চাইলেন।

জাহাজ যখন সাগরের মাঝামাঝি তখন ঈশ্বর ভীষণ এক ঝড় পাঠিয়ে দিলেন। জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা ভীষণ ভয় পেল।
তারা যাত্রীদের কাছে চিৎকার করে বলল, ‘আপনারা আপনাদের দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করুন। আপনাদের জীবনের জন্য প্রার্থনা করুন।’
জাহাজে উঠে যোনা খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। নাবিকরা তাকে জাগিয়ে বলল, ‘অন্য সকলের মত আপনিও প্রার্থনা করুন।’
যোনা বললেন, ‘আমি ঈশ্বরের সাহায্য চাইতে পারি না। কারণ আমি তার কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছি। তাই ঈশ্বর এই ঝড় পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমাকে জাহাজ থেকে জলে ফেলে দিন। এতে সাগর শান্ত হয়ে যাবে।’
প্রথমে নাবিকরা তা করতে অস্বীকার করল। কিন্তু ঝড় আরও বাড়তে লাগল। শেষে যোনা যা বলেছিলেন তারা তা-ই করর।
যোনাকে যখনই সাগরে ফেলে দেওয়া হল তখন থেকেই সাগার শান্ত হতে লাগল। আর জাহাজে যত যাত্রী ছিল তারা যোনার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিল।
যোনার মনে হতে থাকল তিনি জলে তলিয়ে যাচ্ছেন। তার মাথার উপর দিয়ে যখন ঢেউ বয়ে যাচ্ছে তখন তিনি ঈশ্বরের সাহায্য চাইলেন। তখন ঈশ্বর একটি বড় মাছ পাঠিয়ে দিলেন। সেই মাছ তাকে জীবন্ত গিলে ফেলল।

সেই মাছের পেটে অন্ধকারে যখন তিনি একা তিন দিন ছিলেন তখন যোনা ঈশ্বরের অবাধ্য হওয়ার জন্য দুঃখিত হলেন। তিনি সেখানে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইলেন।
এরপর ঈশ্বর সেই মাছকে আদেশ করলে মাছটি তাকে সমুদ্রের এক পাড়ে বমি করে ফেলে দিল। তিনি আবার সূর্যের আলো দেখতে পেয়ে খুবই খুশি হলেন!
তিনি সোজা নীনবী শহরে গিয়ে ঈশ্বরের দেওয়া খবর লোকদের কাছে বলতে লাগলেন।
‘আর চল্লিশ দিন পরে নীনবী শহর ধ্বংস হয়ে যাবে।’
লোকেরা ঈশ্বরের এই বাক্যে বিশ্বাস করল। তারা সকলে- রাজা থেকে শুরু করে একেবারে গরীব লোক পর্যন্ত তাদের মন্দ পথ থেকে ফিরে আসল। এতে ঈশ্বর খুশি হলেন। যেহেতু তারা মন্দ পথ থেকে ফিরে এসেছে তাই ঈশ্বর তাদের ধ্বংস করলেন না।

এদিকে যোনা শহরের বাইরে এসে বসে রইলেন। তিনি মনে মনে ভীষণ রেগে গেছেন।
তিনি ঈশ্বরকে বললেন, ‘তুমি যে এরকম করবে আমি কি তা জানতাম না? সেজন্য আমি পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমি জানি তুমি কত দয়াময়। এখন আমি মরে যেতে চাই।’
কিন্তু ঈশ্বর যোনাকে মরতে দিলেন না। এর বদলে তিনি একটি গাছ জন্মালেন। সেই গাছটি যোনাকে ছায়া দিতে লাগল।
এতে যোনা খুশি হলেন।

কিন্তু পরের দিন সূর্যের তাপে গাছটি মরে গেল।
যোনা বললেন, ‘সাছটির জন্য আমি খুশি হয়েছিলাম। এটি মরে যাওয়াতে আমার ভীষন খারাপ লাগছে।’
ঈশ্বর তাকে বললেন, ‘এই তো তুমি শিখতে শুরু করেছ। তুমি যে গাছটির জন্য কিছু কর নি সেজন্য এখন তোমার দুঃখ হচ্ছে। এই নীনবী শহরের সব লোকদের ও এখানকার সব শিশুদের জন্য আমার যে ভালবাসা আছে তা তুমি কি বুঝতে পার না? আমি কি তাদের জন্য দঃখিত হতে পারি না? সেখানে তো অনেক পশুও আছে। আমি তাদের সকলের জীবন দিয়েছি এবং তাদের যত্ন নিতে আামকে অনেক কষ্টও পেতে হচ্ছে।’
ঈশ্বরের এই কথা শুনে যোনা ঈশ্বরের ভালবাসা বুঝতে আরম্ভ করলেন।

যোনা ১-৪

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন