বাইবেলের গল্প

বাপ্তিষ্মদ্বাতা যোহন একজন রাজার কথা ঘোষণা করলেন

সখরিয় তার ছেলেকে পবিত্র শাস্ত্র অর্থাৎ ঈশ্বরের আইন-কানুন ও নবীদের লেখা শিক্ষা দিয়েছিলেন ও তা বুঝতে সাহায্য করেছিলেন। ঈশ্বর তাকে যে কাজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন যোহন প্রথম থেকেই সেই বিষয়ে শিক্ষা পেয়েছিলেন।

বড় হবার পর তিন একাকী মরুভূমিতে বাস করতে লাগলেন। তিনি পশুর লোমের চামড়া পরতেন ও চামড়ার বেল্ট ব্যবহার করতেন। তিনি বনমধু ও ফড়িং খেয়েই বেঁচে থাকতেন।
মরুভূমিতে যোহনকে ঈশ্বর তাঁর বাক্য দিলেন। তিনি মানুষের কাছে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করতে ও তাদের শিক্ষা দিতে আরম্ভ করলেন। তিনি বলতেন, ‘ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে। আপনারা প্রস্তুত হোন। আপনাদের জীবন-পথ পরিবতন করুন। তাহলে ঈশ্বর আপনাদের ক্ষমা করবেন।’
যোহন খুব জোরে সোরে সাহসের সংগেই প্রচার করতেন। তিনি লোকদের বলতেন যে, তারা পাপের পথে চলছে। যারা তার কথা শুনে বিশ্বাস করত তারা আরও ভালভাবে জীবন-যাপন করতে চেষ্টা করত। তিনি ক্ষমার প্রমাণ হিসাবে তাদের জর্ডান নদীতে ‘বাপ্তিষ্ম’ দিতেন, যা ছিল তাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যাবার চিহ্ন। যখন লোকেরা জিজ্ঞেস করত তাদের এখন কি করা উচিত, তখন যোহন বলতেন:
‘যাদের খাবার নেই তাদের সঙ্গে আপনাদের খাবার ভাগাভাগি করে নিন। যদি আপনাদের বেশী কাপড় থাকে তবে যাদের প্রয়োজন তাদের দিন।’ তিনি র্ক-আদায়কারীদের বলতেন, যেন তারা লোকদের না ঠকায়। সৈন্যদের বলতেন, তারা যে বেতন পায় তাতেই যেন সন্তুষ্ট থাকে।
এতে লোকেরা ভাবতে শুরু করে, হয়তো যোহনই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা-করা রাজা। কিন্তু তিনি বলতেন, ‘আমি নই। আমি শুধু রাজার ঘোষণাকারী। আপনাদের কাছে আমাকে এই কথা বলতে পাঠানো হয়েছে যে, তিনি আসছেন। তিনি আমার চেয়ে মহান।
যীশু নাসরত থেকে যাত্রা করে দক্ষিণ দিকে এলেন যোহনের সঙ্গে দেখা করবার জন্য। যদিও তাঁরা আত্মীয় ছিলেন কিন্তু তাঁরা এর আগে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু যোহন যখনই যীশুকে দেখতে পেলেন তখনই তিনি বুঝতে পারলেন যে, তিনিই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা-করা রাজা।
যোহন বললেন, ‘আপনি কেন আমার কাছে এসেছেন? আপনার নয়, বরং আমারই আপনার কাছে বাপ্তিষ্ম নেওয়া উচিত।’

যীশুর পরীক্ষা

এই ঘটনার পর, যীশু চল্লিশ দিন মরু-এলাকায় থাকলেন। তাঁর যখন খুব খিদে পেল তখন ঈশ্বরের শত্রু শয়তান তাঁকে পরীক্ষা করতে শুরু করল। সে চেষ্টা করল যেন যীশু ঈশ্বরের অবাধ্য হয় ও ঈশ্বরের সব কাজ ধ্বংস হয়ে যায়।
শয়তান বলল, ‘তোমার তো খুব খিদে পেয়েছে, এই পাথরটিকে রুটি হয়ে যেহে বল।’
কিন্তু যীশু তা করতে অস্বীকার করলেন। ঈশ্বর তাঁকে অনেক শক্তি দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা নিজের জন্য ব্যবহার করতে চাইলেন না।
শয়তান আবারও বলল, ‘আমাকে প্রণাম কর, আমার সেবা কর- তাহলে আমি পৃথিবীর সব ধন-সম্পদ তোমাকে দেব।’
যীশু আবারও তা করতে অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন:
‘ঈশ্বর বলেছেন যে, আমাদের উচিৎ কেবল তাঁকেই প্রণাম করা- আর কাউকে নয়।’
শয়তান সব রকমের চালাকি করে যীশুকে ঈশ্বরের অবাধ্য করতে পারল না। সেই চল্লিশ দিন পরে যীশু তাঁর বাড়ীর দিকে রওনা দিলেন। ঈশ্বর তাঁর উপর যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন তা করতে এখন তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

যীশুর কাজের শুরু

যীশু গালীলে একাকী ফিরে যাননি। এরই মধ্যে কয়েকজন লোক তাঁর সঙ্গী হয়েছে।
আন্দ্রিয় ছিলেন বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের শিষ্য। আন্দ্রিয় তার ভাই পিতরকে যীশুর কাছে নিয়ে এলেন। আন্দ্রিয় তার ভাই পিতরকে যীশুর কাছে নিয়ে এলেন। আন্দ্রিয় ও পিতর ছিলেন গালীল সাগরের জেলে। ফিলিপ সেই একই শহরের লোক। তিনিও নথনিয়েলকে যীশুর কাছে আনলেন।
গলীল প্রদেশের নাসরত গ্রামে কাঠমিস্ত্রির দোকানে যীশু যে কাজ করতেন তা তিনি ছেড়ে দিলেন। এখন তাঁর জীবনের আসল কাজ শুরু হয়েছে। যীশু ঈশ্বরের সুখবর লোকদের কাছে প্রচার করা শুরু করলেন।
তিনি বললেন, ‘আমরা এখন একটি বিশেষ সময়ে বাস করছি। ঈশ্বরের শাসন অর্থাৎ তাঁর রাজ্য- এখন এখানে এসে গেছে। এখন একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে। আপনারা মন্দ পথ থেকে ফিরে এসে ঈশ্বরের সুখবরে বিশ্বাস করুন।’
কিন্তু তাঁর নিজের গ্রাম নাসরতের লোকেরা তাঁর কথায় কান দিত না। তারা বলত, ‘এই কাঠমিস্ত্রি নিজেকে কি মনে করে?’ তাকে নিন্দা করে বলত ‘তুমি কি করে শিক্ষক হলে? তুমি তো আইন-কানুনের শিক্ষা গস্খহণ করনি।’
তিনি এক বিশ্রামবারে অর্থাৎ শনিবারে সমাজ-ঘরে- যেখানে ছেলেরা মোশির আইন আইন কানুন শিখে থাকে ও সাপ্তাহিক উপাসনা হয়- সেখানে তিনি শিক্ষা দিতে চেষ্টা করলে পর লোকেরা তাঁকে বের করে দিল।
তাই যীশু গালীলের চারদিকে অন্য শহরে ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন আর লোকেরা আগ্রহ নিয়ে তাঁর কথা শুনতে লাগল।

লূক ৩-৪

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন