বাইবেলের গল্প

মন্দিরে বালক যীশু

প্রত্যেক বছর বসন্তকালে যোষেফ ও মরিয়ম বাৎসরিক উদ্ধার-পর্ব পালন করবার জন্য যিরূশালেমে যেতেন। (উদ্ধার-পর্বের সময় প্রত্যেক পরিবার একটি ভেড়া কেটে বিশেষ ভোজ উৎসব পালন করে এই কথা স্মরণ করত যে, কিভাবে ঈশ্বর মিসরের দাসত্ব থেকে তাদের উদ্ধার করেছেন)। যীশুর বয়স যখন বারো বছর তখন তিনি মা-বাবার সঙ্গে সেখানে গেলেন। নানা জায়গা থেকে আরও অনেক লোক দল বেধে আনন্দ করতে করতে যিরূশালেমে আসত। ঐ সময় যিরূশালেম শহর লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যেত।

সেই ব্যস্ত ও আনন্দমুখর ভোজের দিনগুলো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। এখন তাদের যার-যার বাড়ী ফিরে যাবার সময় হয়েছে। যোষেফ ও মরিয়ম অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের নিজের বাড়ীতে রওনা দিলেন।
বালকেরা সব সময় হয় দলের আগে-আগে বা পিছনে থাকত। তাই যোষেফ ও মরিয়ম বিকেল না হওয়া পযন্ত বুঝতেই পারেন নি যে, যীশু তাদের সঙ্গে নেই।

তাদের কোন আত্মীয়-স্বজনও তাঁকে দেখে নি। মরিয়ম ও যোষেফ খুব চিন্তার মধ্যে পড়লেন। রাতে তারা ঘুমাতে পারলেন না। পরের দিন সকালে যীশুকে খুঁজতে তারা আবার যিরূশালেমে ফিরে গেলেন। তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে সারাদিনই প্রায় শেষ হয়ে গেল। তারপর তারা তাঁকে পেলেন মন্দিরে। তিনি সেখানে ধর্ম-শিক্ষকদের কাছে ঈশ্বরের দেওয়া নিয়ম কানুনের বিষয়ে কথা বলছিলেন ও তাদের প্রশ্ন করছিলেন। সেখানকার সবাই তাঁর কথা শুনে আশ্চর্য হয়েছিল এই ভেবে যে, বালকটি কত কিছু জানে ও বুঝে।

মরিয়ম জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তুমি এমন করলে কেন খোকা? তোমার বাবা ও আমি তোমার জন্য খুব চিন্তায় ছিলাম।’
যীশু মনে হয় তার মায়ের কথা শুনে একটু অবাক হলেন। তারা ভুলেই গিয়েছিলেন যে, যীশু একজন সাধারণ বালক নন, স্বয়ং ঈশ্বর তাঁর পিতা।
এরপর তারা সবাই নাসরতে ফিরে গেলেন। সেখানে যীশু সবসময় তাঁর বাবা-মায়ের বাধ্য হয়ে থাকলেন।

লূক ২:৪১-৫২

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন