বাইবেলের গল্প

তার নাম হবে যোহন

মরিয়ম যখনই এই কথা শুনলেন তখন তিনি তাড়াতাড়ি তার আত্মীয়া ইলীশাবেতের বাড়ী যাবার জন্য রওনা হলেন। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তিনি ইলীশাবেতের বাড়ীতে পৌঁছালেন। সেখানে বাস করতেন ইলীশাবেত ও তার স্বামী সখরিয়।
মরিয়ম বললেন, ‘আমি যখন এই খবর শুনলাম তখন তাড়াতাড়ি চলে এলাম।’ তার জীবনে কি ঘটেছে মরিয়ম সবই ইলীশাবেতকে খুলে বললেন। কিন্তু মরিয়ম আশ্চর্য হলেন যে, ইলীশাবেত এর মধ্যেই সব জানেন।
ইলীশাবেত বললেন, ‘এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, ঈশ্বর তোমাকে রাজার মা হবার জন্য বেছে নিয়েছেন।’
এরপর তিনি তার নিজের আশ্চর্য কাহিনী বলতে শুরু করলেন…..
ইলীশাবেত ও সখরিয় অনেক বছর ধরেই একটি সন্তানের অপেক্ষা করছিলেন। তারা তাদের প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে এ বিষয়টি সব সময় তুলে ধরতেন। কিন্তু সময় বয়ে গেল, তাদের কোন সন্তান হল না। তারা ধীরে ধীরে বুড়ো হতে লাগলেন এবং শেষে সন্তানের আশা ছেড়েই দিলেন।
সখরিয় ছিলেন একজন পুরোহিত। একদিন তিনি যিরূশালেমের মন্দিরে গিয়ে তার রুটিন অনুযায়ী কাজ করছিলেন। তিনি মন্দিরের ভিতরে গিয়ে বেদির উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাচ্ছিলেন।
তিনি যখন একা তখন ঐ সময় ঈশ্বরের দূত গাব্রিয়েল তার কাছে এলেন।
দূত বললেন, ‘সখরিয়, ভয় পেও না। ঈশ্বর আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন এই সংবাদ দিতে যে, তুমি সন্তানের জন্য যে প্রার্থনা করেছিলে ঈশ্বর সেই প্রার্থনা শুনেছেন। তোমার স্ত্রী ইলীশাবেতের একটি ছেলে হবে। তুমি তার নাম রাখবে যোহন। সে বড় হয়ে অনেক মহান হবে এবং তার জন্য তুমি খুশি হবে। ঈশ্বর তোমার ছেলেকে বেছে নিয়েছেন তাঁর রাজার আগমনের কথা ঘোষণা করতে। রাজাকে স্বাগতম জানাতে তোমার ছেলে যোহন সাহায্য করবে।’
কিন্তু সখরিয় সত্যিই সেই কথা বিশ্বাস করতে পারলেন না। কারণ একটি সন্তান হবার জন্য তারা দু’জনেই খুবই বুড়ো হয়ে গিয়েছেন!
দূত বললেন, ‘যেহেতু তুমি আমার কথায় বিশ্বাস করলে না, তাই এই সময় থেকে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা সফল না হওয়া পর্যন্ত তুমি বোবা হয়ে থাকবে।’
তারপর সখরিয় মন্দিরের কাজ শেষ করে নিজের বাড়ীতে গেলেন। কিন্তু তিনি কোন কথা বলতে পারলেন না। ইলীশাবেত বুঝতে পারলেন না যে, তার কি হয়েছে। তিনি ভয় পেলেন। তখন সখরিয় একটি কাগজে লিখে তাকে বুঝিয়ে দিলেন মন্দিরে কি ঘটনা ঘটেছে…।
ইলীশাবেত মরিয়মকে বললেন, ‘ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছেন। আর চার মাস পরেই সেই শিশু জন্ম নেবে। কিন্তু এখনও সখরিয় কথা বলতে পারেন না।’
মরিয়ম ইলীশাবেতের কাছে তিন মাস রইলেন। মরিয়ম যখন তাদের ছেড়ে নাসরতে ফিরে এলেন তখন ইলীশাবেতের ছেলের জন্মের সময় কাছে এসে গেছে গেছে।
অবশেষে ইলীশাবেতের একটি ছেলে হল। তার পরিবারের সব লোক, বন্ধু-বান্ধব, সবাই এ খবর শুনে খুশি হল। ছেলেটির নাম কি রাখা যায় তার নিয়ে সবাই পরামর্শ করতে লাগল। সবাই তার বাবার নাম অনুসারে সখরিয় রাখতে চাইল। কিন্তু ইলীশাবেত বললেন, ‘না, ছেলের নাম হবে যোহন।’
তারা যুক্তি দেখিয়ে বলল, ‘আমাদের পরিবারে তো কারও নাম যোহন নেই।’ তাই তারা সখরিয়ের কাছে জানতে চাইল তার কি নাম রাখা হবে।
সখরিয় একটি কাগজ ও কলম নিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে লিখলেন: ‘তার নাম হবে যোহন।’
ঠিক সেই সময়েই সখরিয়ের মুখ খুলে গেল। তিনি আবার কথা বলতে শুরু করলেন। এরপর প্রথমেই তিনি তার ছোট্ট ছেলের জন্য মুখ খুলে জোরে জোরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন।
লূক ১:১৫-২৫, ৩৯-৮০

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন