গিদিয়োনের তিনশো জন লোক

অনেক বছর পার হয়ে গেল। এর মধ্যে যিহোশূয় মারা গেছেন আর ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের জন্য যা কিছু করেছিলেন তা লোকেরা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে গেল। তারা যে সদাপ্রভুর সেবা করার প্রতিজ্ঞা করেছিল তাও ভুলে গেল। তারা তাদের চারিদিকে যেসব জাতি আছে তাদের দেবতাদের পূজা করতে শুরু করল।

তখন উত্তর থেকে দক্ষিণে ও পূর্ব থেকে পশ্চিমে তাদের যেসব শত্রু ছিল তারা তাদের কষ্ট দিতে শুরু করলেন। এর ফলে যতবারই ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের কাছে ফিরে গিয়ে কান্নাকাটি করল ততবারই ঈশ্বর একজন করে উদ্ধারকর্তা পাঠিয়ে তাদের শত্রুদের তাড়িয়ে দিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন অৎনিয়েল, এহূদ, সমগর, দবোরা ও বারাক, গিদিয়োন…।

গিদিয়োনের সময় একটি বড় সমস্যা হয়েছিল। তখন মরু-এলাকা থেকে উটে চড়ে মিদিয়নীয়রা দলে দলে এসে তাদের খুব সমস্যায় ফেলত। তারা ফরিং এর মত ঝাকে ঝাকে অসংখ্য উট নিয়ে এসে তাদের ভেড়ার পাল, গরুর পাল ও গাধা সব কিছুই নিয়ে যেত। তারা সব ফসলও নিয়ে যেত।

তখন ইস্রায়েলীয়রা সাহায্যের জন্য সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল।

আর ঈশ্বর তাঁর একজন দূতকে গিদিয়োনের কাছে পাঠিয়ে বললেন, “আমি আমার লোক ইস্রায়েলীয়দের মিদিয়নীয়দের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য তোমাকে উদ্ধারকর্তা হিসাবে কাজ করতে বলছি।”

গিদিয়োন কিন্তু তা বিশ্বাস করতে চাইলেন না।

দূত তাকে অনেক ভাবে বুঝালেন।

পরে গিদিয়োন প্রমাণ চাইলেন।

তিনি ঈশ্বরকে বললেন, “ধামি কিছু উল মাটিতে রাখব। আগামীকাল সকালে যদি দেখি যে, শিশিরের জলে উল ভিজে গেছে কিন্তু মাটি ভেজেনি তবে আমি জানব যে, তুমি আমার মধ্য দিয়ে ইস্রায়েলকে মুক্ত করতে যাচ্ছ।”

ঈশ্বর প্রমাণ দিলেন। পরের দিন সকালে গিদিয়োন সেই উল চিপড়ে এক বাটি জল পেলেন কিন্তু মাটি ছিল একেবারে শুকনা।

এরপর তিনি আরেকটি প্রমাণ চাইলেন। এবার তিনি চাইলেন উল যেন শুকনা থাকে আর মাটি শিশিরে ভিজে যায়। এবারও তিনি যেমন চাইলেন ঈশ্বর তেমনই একটি প্রমাণ দিলেন।

তাই গিদিয়োন যুদ্ধ করবার জন্য সব বংশের লোকদের ডেকে একত্র করলেন। তিনি ও তার সৈন্যরা হারোদ ফোয়ারার কাছে তাদের ছাউনি ফেললেন আর তাদের উত্তর দিকে দুই পাহাড়ের মাঝখানেই ছিল মিদিয়োনীয়দের ছাউনি।

কিন্তু ঈশ্বর বললেন, “তোমার সৈন্য সংখ্যা অনেক বেশী। তাদের বল যদি কেউ ভয় পেয়ে থাকে তবে যেন বাড়ী চলে যায়।”

একথা শুনে তাদের মধ্যে থেকে বাইশ হাজার লোক বাড়ী চলে গেল! তার পরও তাদের সঙ্গে রইল দশ হাজার সৈন্য।

ঈশ্বর বললেন, “এখনও তোমার সৈন্য সংখ্যা অনেক বেশী। তাদের নিয়ে জলের কাছে নিয়ে যাও। এদের মধ্যে যারা কুকুরের মত জল চেটে খায় তাদের থেকে যারা জল খাবার জন্য হাঁটু পাতে তাদেরকে আলাদা কর।”

মাত্র তিনশো সৈন্য জল চেটে খেল। ঈশ্বর বললেন, “বাকী সবাইকে বাড়ী চলে যেতে বল। এই তিনশো সৈন্য দিয়েই আমি তোমাকে বিজয়ী করব।”

সেই রাতে গিদিয়োন মিদিয়নীয়দের ছাউনি আক্রমণ করল। তিনি তার সৈন্যদের তিনটি দলে ভাগ করলেন। প্রত্যেকের হাতে একটি করে শিংগা ও একটি করে কলসী ও এর ভিতরে একটি করে মশাল দেওয়া হল। সেই সৈন্যরা তাদের শত্রু ছাউনির চারদিকে ঘাঁটি বসাল।

তারা গিদিয়োনের নির্দেশ অনুসারে হঠাৎ এক সাথে তাদের শিংগা বাজাল ও কলসী ভেঙ্গে ফেলল। খুব জোরে শিংগার শব্দ ও মশালের আলো ঝলমল করে উঠল। তারা সবাই খুব জোরে বলে উঠল, “সদাপ্রভু ও গিদিয়োনের তলোয়ার।”

এতে সেই শত্রুরা ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করে চিৎকার করে পালাতে লাগল। ছাউনির ভিতরকার সব লোক একজন অন্যজনকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করে ছুটে পালাতে লাগল। গিদিয়োন ও তারা লোকেরা তাদের পাশের ইস্রায়েলীয় বংশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে শত্রুদের আক্রমণ করতে করতে তাড়া করে ছুটে গেল।

এভাবে গিদিয়োন মিদিয়নীয়দের হারিয়ে দিল এবং এরপর চল্লিশ বছর তারা বেশ শান্তিতেই কাটাল।

যদিও ঈশ্বর প্রায়ই তাঁর লোকদের এভাবে সাহায্য করতেন কিন্তু উদ্ধার পাওয়ার পরপরই তারা আবার ঈশ্বরকে ভুলে যেত। তারা তাদের চারপাশের জাতিদের দেবতা গুলোকে, অর্থাৎ আবহাওয়ার দেবতা ও যুদ্ধের দেবতার পূজা করতে শুরু করে দিত। অনেক দিন ধরে তারা এরকম করার পর আবার সমস্যার মধ্যে পড়ত।

বিচারকর্তৃগণ ৬-৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

নতুন লেখা

গাহি যীশুর জয়

১। গাহি যীশুর জয়, সবে যীশুর জয়- আনন্দে গাই সবে যীশুর জয়। ধূয়াঃ বল হাল্লেলুয়া, বল হাল্লেলুয়া - হাল্লেলুয়া,বল হাল্লেলুয়া। ২। দেখ ঈশ-নন্দন...

যখন প্রিয় যীশু দিলেন

যখন প্রিয় যীশু দিলেন প্রাণ, সাতটি কথা তখন বলে যান, প্রিয়জনের মরণ- কথা, ভাই, স্মরণ ক’রে কেমন দুঃখ পাই। ১। যখন লোকে তাঁর...

অপূর্ব প্রেমে প্রভু

অপূর্ব প্রেমে প্রভু এ জগৎ মাতালে, তুমি প্রেম-বলে,ধরাতলে বিজয়ী হইলে। ১। তুমি প্রেম ক’রে (যীশু হে, ও আমার দয়াল যীশু) তুমি প্রেম ক’রে...

ক্রুশ যাহার সুপরিচয়

ক্রুশ যাহার সুপরিচয় সত্য সাধন সার; প্রেমের যীশু ত্যাগের গুরু বন্ধু এ যাত্রার। ১। অঙ্গে যাহার রিক্ত পথিা চির দৈন্য বেশ- দীনের...

ধন্য পরম আরাধ্য যীশু

ধন্য পরম আরাধ্য যীশু , সত্য সনাতন, ঈশ্বর-নন্দন,পতিত-পাবন। ১ । সৃষ্টির পূর্বে ছিলে অনাদিকালে, বাক্য-ব্রহ্মরূপে পিতার কোলে; তুমি স্বয়ং ঈশ্বর,তুমি নিত্য পরাৎপর, তুমি নিখিল...

কত অপরুপ কার্য

কত অপরুপ কার্য, যীশু কৈলেন এ জগতে। স্ররষ্টা হয়ে সৃষ্টারুপে, অবতার নর- দেহেতে। ১। অন্ধ-খঞ্জ-নুলা যত, আর যত ভূতাশ্রিত, কুষ্ঠ রোগী কত...

আপনার ভাল লাগতে পারেএকই লেখা
আপনার জন্য লেখা