বাইবেলের গল্প

যিহিষ্কেল এবং বন্দিদশা

যিহিষ্কেল বাবিলের বন্দিদশা থেকে নিজের দেশে যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। অনেক বছর ধরে তিনি তার ত্রিশতম জন্মদিনের কথা ভাবছিলেন যখন থেকে তিনি মন্দিরে পুরোহিত হিসাবে কাজ করা শুরু করবেন।
অথচ এখন তিনি রয়েছেন তার নিজের দেশ থেকে শত শত মাইল দূরে। যখন যবূখদ্নিৎসর প্রথমে যিহূদা দেশ দখল করেন তখন তার সৈন্যরা যিহিষ্কেলকে বন্দি করে হাজার হাজার বন্দির সঙ্গে যিহূদার পর্বতময় উপত্যকা থেকে বাবিলের সমভূমিতে নিয়ে আসে।
ইতিমধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে যিহিষ্কেল তার বাড়ী ঘর ছেড়ে চলে এসেছেন। যিহিষ্কেল ভাবছেন, ‘ঈশ্বরের মন্দির এই জায়গা থেকে কতদূর? ঈশ্বর এই জায়গা থেকে কত দূরে থাকেন?’

এরপরে তিনি হঠাৎ আসা একটি ঝড়ের দিকে চোখ তুলে তাকালেন। একটি ঝড় আসছে কি? একটি অন্ধকার ঝড় তার দিকে ধেয়ে আসছে। বিদ্যুৎ চম্কাচ্ছে। এটা এত কাছে যে, সেই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু যিহিষ্কেল দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে চারটি পাখাওয়ালা প্রাণী দেখা যাচ্ছে, যারা ঈশ্বরের মন্দিরের নিয়ম-সিন্দুক পাহারা দিচ্ছে- তারা পাখায় পাখা লাগিয়ে উড়ছে এবং তাদের মধ্যে অনেক চাকা, যেদিক খুশি সেদিক তারা ঘুরতে পারছে আর তাদের চোখগুলা ঘুরে ঘুরে সবদিকেই দেখতে পাচ্ছে।
সেই অন্ধকারের উপরে যিহিষ্কেল পরিষ্কার নীল রং দেখতে পেলেনন- আকাশের চেয়েও তা অনেক সুন্দর নীল- তার সঙ্গে অনেক রংয়ের মেঘ ধনুক রয়েছে।
তখন তিনি একটি স্বর শুনতে পেলেন। সেটা এমন স্বর যে, তাতে পৃথিবী কেঁপে উঠল। যিহিষ্কেল নিজেও ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। এই স্বর কি ঈশ্বরের নিজেরই স্বর- আর তা এই বাবিল দেশে?
সেই স্বর বললেন, ‘মনুষ্য-সন্তান, বন্দিদশায় আমার যে লোকেরা আছে আমি তাদের সাবধান করতে তোমাকে পাঠাচ্ছি। তারা বিদ্রোহ করেছে এবং আমার বিপক্ষে গিয়েছে। তুমি তাদেরকে ঠিক হয়ে চলতে বল। আমি তোমার মুখে আমার বাক্য দেব।’

এরপর সেই দর্শন চলে গেল। যিহিষ্কেল কাঁপতে কাঁপতে তাদের ছাউনিতে ফিরে এলেন। সেখানে ঈশ্বর ছিলেন- তিনি সব জায়গায় আছেন। ঈশ্বর তাঁকে একটি বিশেষ কাজের ভার দিলেন- কিন্তু সেই কাজ মন্দিরে নয়, বন্দি অবস্থায় তারা যে ছাউনিতে থাকত সেখানে।
এরপর ঈশ্বর যিহিষ্কেলকে আরও অনেক দর্শন দেখালেন- ভয়ানক ও আশ্চর্য সব দর্শন। যিহিষ্কেল দেখলেন কিভাবে নবূখদ্নিৎসর আবারও যিহূদা আক্রমণ করবে, যিরূশালেম দখল করে মন্দির ধ্বংস করে দেবে।
যিহিষ্কেল অন্যদের কাছে সেসব কথা বললেন- শুধু মুখের কথাই নয়, তিনি তা অভিনয় করেও দেখালেন যাতে কেউ তা ভুলে না যায়।
তিনি বললেন, ‘এটা আমাদের দোষ; ঈশ্বরের অনেক মঙ্গল ও দয়া পেয়েও আমরা তাঁর আইন-কানুন পালন করি নি। আমরা ভুল করেছি, এমনকি, আমরা অপদার্থ দেব-দেবতার পূজা করেছি। আর এখন এই সব অন্যায়ের শাস্তি ভোগ করছি।’

পরিশেষে খবর এল যে, নবূখদ্নিৎসর যিরূশালেম দখল করে নিয়েছেন এবং শহর ও মন্দির ধ্বংস করে দিয়েছেন- ঠিক যেমন যিহিষ্কেল বলেছিলেন।
বন্দিদশায় যারা ছিল তারা একথা শুনে একেবারে ভেঙ্গে পড়ল।
তারা বলল, ‘এখন আমাদের আর কোন ভবিষ্যত নেই, কোন আশা নেই। ঈশ্বর আমাদের ত্যাগ করেছেন।’
যিহিষ্কেল তার সাধ্য অনুযায়ী তাদের সান্ত¡না দিলেন।
তিনি তাদের বললেন, ‘এটা ঠিক নয়। ঈশ্বর এখনও আমাদের ভালবাসেন।’
কিন্তু লোকেরা তার কথায় সান্ত¡না পেল না।

তাই ঈশ্বর যিহিষ্কেলকে নতুন একটি দর্শন দিলেন। তিনি একদিন একটি উপত্যকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে তার চারদিকে মানুষের অনেক শুকনা হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।
ঈশ্বর বললেন, ‘তুমি হাড়গুলোকে বল যে, আমি তাদের জীবন দেব- মানুষের মত নিঃশ্বাস দেব।’
ঈশ্বর যা করতে বললেন যিহিষ্কেল তা-ই করলেন। তিনি ঐ হাড়গোড়ের উদ্দেশে ঈশ্বরের বাক্য বললেন। তাতে ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজ শুরু হল। হাড়গোড়গুলো একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগাতে শুরু করল। তারপর সেগুলো কংকাল হয়ে উঠে দাঁড়াল। আর তাতে মাংস ও চামড়া হতে লাগল এবং ঈশ্বর তাদের নিঃশ্বাস দিলেন! এতে তারা সবাই জীবন্ত মানুষ হল।
ঈশ্বর যিহিষ্কেলকে বললেন, ‘আমি কি করতে পারি সে কথা তুমি আমার লোকদের বল। আমি তাদের মধ্যে নতুন জীবন দেব এবং আবার তাদের একটি জাতিতে পরিণত করব। আমি তাদের নিজেদের দেশে নিয়ে যাব। তখন তারা আমার বাধ্য হয়ে জীবন কাটাবে। তুমি তাদের বল যে, এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। আমি সব সময় আমার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করি, এতে তারা তা জানতে পারবে।’

যিহিষ্কেল ১-৪৮

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রাইষ্টবিডি রেডিও