প্রবন্ধ

যাত্রিকের গতি

জন বানিয়ানের বিখ্যাত বই যাত্রিকের গতি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় ৩০০ বছর পেরিয়ে গেছে। এমন পঠিত ও আলড়ন সৃষ্টিকারী বই নেই বললেই চলে। যাত্রিকের গতির বিক্রয়ের পরিমান বাইবেলের ঠিক পরেই। বইটি বহু ভাষায় অনুদিত হয়েছে। একের পর এক বিচিত্র সংস্করণ বের হয়েছে। বইটির প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে শিশু শ্রেণী পর্যন্ত। এই চলচিত্রটি সেই বহুল পরিচিত বইটিরই নাট্যরূপ।

১৬২৮ সালে জন বানিয়ানের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন একজন জনপ্রায় ধর্মপ্রচারক। ১৬৮৮ সালে তিনি মারা যান। ইংলান্ডের রাজা দ্বিতীয় জেমসের রাজত্বকালে বে-আইনী সভা-সমিতি করা এবং চার্চ অফ ইংল্যান্ডের জাতীয় উপাসনার নিয়ম না মেনে চলার জন্যে জন বানিয়ানকে ধরা হয়। উপাসনার নিয়ম মেনে চলতে অস্বীকার করেছিলেন বলে তিনি বারো বৎসর বেডফোর্ড জেলে আটক ছিলেন। নিজের ধর্ম-বিশ্বাসের জন্যে দুঃখ-বরণে তাঁর মনে আনন্দ ছিল বলে তিনি ঈশ্বরের বাস্য পড়ে সময় কাটাতেন। তাঁর জীবনে তখন সেই বাস্য আগের চেয়ে আরও বেশী অর্থপূর্ণ হতে থাকে। স্ত্রী ও সন্তানদের বিচ্ছেদে বানিয়ান নিজের দেহের অংশ কেটে ফেলার মত অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন। তাদের দুর্দশার সংবাদে তিনি প্রায় ভেংগে পড়েছিলেন। কিন্তু সমস্ত বাধা থাকলেও তিনি মনে মনে ঠিক করেছিলেন যে, তিনি ঈশ্বরের দিকেই এগিয়ে যাবেন।

যে স্থানকে তিনি “সিংহ-গুহা” বলতেন, সেখানে অনেক বছর ধরে থাকার সময় প্রভুতে তাঁর সন্তানদের জন্যে তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তাদের ধর্ম-বিশ্বাসকে শক্ত করে তুলবার আশায় তিনি লিখলেন,

রূপক-কাহিনী এক স্বপ্ন মাঝে দেখি,
যাত্রিকগণ চলিতেছে মহিমার পথে;
কত যে ঘটনা ঘটে আমি তাহা লেখি,
আরও শতকথা মোর রহে মনোরথে।
চিত্ততলে তারা সবে আসে বার বার,
অংগার স্ফুলিংগসম গতি সবাকার।

ফলে “যাত্রিকের গতি” নামে একটি বিখ্যাত রূপক-কাহিনী রচিত হয়। ছোট-বড় সকলেরই শিক্ষা ও আনন্দ লাভের জন্যে এই পুস্তকখানিতে সেই পুরানো কাহিনীটি এখানে চিত্রায়ন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন