প্রবন্ধ

বিধ্বস্ত নতুন প্রজন্ম; বাইবেলের আলোকে আমাদের করণীয়

নতুন প্রজন্ম

“পাপের বেতন মৃত্যু” -(রোমীয় ৬ঃ২৩) রোমীয় পুস্তকের এই পদটি আমাদের অনেকের জানা আছে। পাপ করলে আমরা দৈহিকভাবে নয় তবে আত্মিকভাবে মারা যাই। আমরা আদম-হবার বিষয়ে জানি যাদের অবাধ্যতার কারণে আমরা অভিশপ্ত ও পাপী হিসেবে জন্মগ্রহন করি। পৃথিবীতে প্রথম মানবরক্তপাত আদমের দুই সন্তানের মধ্যে ঘটেছিল হিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কাবিল দ্বারা হাবিলকে হত্যার মাধ্যমে। এর পরে পৃথিবীতে অজস্র মানবহত্যা কারণে-অকারণে ঘটে চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের কতিপয় দেশে সন্ত্রাসবাদ একটি বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ একটি যন্ত্রনাদায়ক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা যায় কেউ অস্ত্র ধারণ করে নিজেকে রক্ষার জন্য, স্বাধিকার আদায়ের জন্য, কারো কাছে এটি জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ, আবার কারো কাছে এটি দাবী আদায়ের পন্থা কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রাম। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও মানবজাতির সীমাহীন অসম্মান বর্তমান সময়ের আলোচিত  একটি বিষয়। আমরা যদি বর্তমান সময়ের আলোচিত কিছু ঘটনা প্রবাহ লক্ষ্য করি তবে জঙ্গিবাদ বিষয়টি প্রথমে উঠে আসবে। এই জঙ্গিবাদের কারনে যেমন সাধারন মানুষদের প্রাণ যাচ্ছে জঙ্গিদের হতে আবার জঙ্গিদের রেশ ধরে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতন করছে একটি দেশের সেনাবাহিনী। মানবাধিকার, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নিয়ে বিজ্ঞজনরা নানা ধরনের লেখালেখি, টকশো ও সংবাদ পরিবেশন করছেন। আমরা আম- জনতা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কি-ই-বা করতে পারি?

বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের সাথে নতুন প্রজন্ম যেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে তাতে বৈশ্বিক নৈতিক বিপর্যয় অনিবার্য। বর্তমানে নতুন প্রজন্ম সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে যাবার পেছনে অতি স্বাধীনচেতা ও বাইবেলের শাষনের অভাব আছে বলে আমি মনে করি। ধর্মীয় উগ্রবাদ দিয়ে উগ্রবাদী সন্ত্রাস রুখা যাবে না। উগ্রবাদকে রুখতে হলে বাইবেলের নমনীয়বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং সে মতে শাসনের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। পবিত্র বাইবেল নমনীয়বাদের যে শিক্ষা দেয় তা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অহিংসভাবে জঙ্গিবাদের মত সমস্যা দূর হবে বলে আসা করি।

বাইবেলের শাসনের দুটি দিক আছে;
ক) শিক্ষা (ঈশ্বরের বাক্যের আলোকে যা আমরা নতুন প্রজন্মকে শিখাবো সেটি হল শিক্ষা)।
খ) সংশোধন (আর ঈশ্বরের বাক্যের আলোকে যা ঠিক নয় সে বিষয়ে আমরা যা বারণ করব তা হল সংশোধন)।

শিক্ষা ও সংশোধন মিলেই শাসন। আসুন এ বিষয়ে পবিত্র বাইবেল কি বলে তা দেখি। ইফিষীয় ৬ঃ১-৩ পদে পৌল এই আদেশ দিয়েছেন,

“সন্তানেরা, তোমরা প্রভূতে পিতামাতার আজ্ঞাবহ হও, কেননা তাহা ন্যায্য। ‘তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও,’ – এ ত প্রতিজ্ঞাসহযুক্ত প্রথম আজ্ঞা – যেন তোমার মঙ্গল হয়, এবং তুমি দেশে দীর্ঘায়ু হও’।”

শাষন মানে নতুন প্রজন্মকে এই প্রতিজ্ঞা বুঝতে সাহায্য করা, তারা যদি বাধ্য হয় তবে তাদের ভাল হবে। আর এর উল্টোটাও সত্যি যে, যদি বাধ্য না হয় তবে ভাল হবে না। পৌল চতুর্থ পদে বলেছেন প্রভুর শিক্ষায় ও শাষনে তাদের মানুষ করে তুলতে হবে। আবার নতুন প্রজন্মকে এটাও শিক্ষা দিতে হবে যে, বাধ্য হওয়া তাদের কর্তব্য। কেন তাদের এটা কর্তব্য? কারন পাপ থেকে মনোণীতদের উদ্ধার করার জন্য যিশু খ্রিষ্ট ক্রুশে প্রাণ দিয়েছিলেন। প্রভূ যিশুর উপর বিশ্বাস করার পরে নতুন প্রজন্ম ভয়ে বাধ্য হবে না বরং যিশুকে প্রেম করে বলেই বাধ্য হওয়া উচিত।

অনেকে বলে থাকেন শিশু কোন পাপ নিয়ে জন্মায় না। সে যেন একটা নতুন নোটবুক; যা সে শিখবে বা বুঝবে তাই লিখিত হবার জন্য যেন সেই নোটবুক অপেক্ষা করে আছে। সেই সব শেখা বা বোঝা থেকেই সে ভাল অথবা খারাপ হবে। যারা এ কথা বলেন তারা মনে হয় কখনও লক্ষ্য করেননি। জন্মের পরথেকেই তারা স্বার্থপর হয়, নিজের ইচ্ছামত চলতে চায়। ক্লান্ত মায়ের জন্য তাদের কোন চিন্তা নেই। ক্ষুদা পেলে তখনই তাদের খেতে দিতে হবে। যখন বাচ্চারা খেলা করে তখন লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন তারা মারামারি করে এক জন অন্যকে আঘাত করে এবং নিষ্ঠুর ভাবে একে অন্যের সাথে কথা বলে। তাদের আবদার দেওয়া না হলে চিৎকার করে কাঁদে। তাহলে দেখা যায় তারা নির্দোষ হয়ে জন্মায় না। এই সত্যই প্রধান কারন যার জন্য নতুন প্রজন্মকে শাসনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেতে দিতে হবে।

কেননা বাইবেল বলে, “কেননা সকলেই পাপ করিয়াছে এবং ঈশ্বরের গৌরব-বিহীন হইয়াছে।” -(রোমীয় ৩ঃ২৩) আদম হাওয়া পাপ করলেন এতে তাঁদের ছেলেমেয়েরাও পাপে ডুবে গেল। কেবল তাঁদের ছেলেমেয়েরা নয় যত শিশু তারপর জন্মাচ্ছে সবাই পাপ নিয়েই জন্মাচ্ছে এবং জন্মাবে। পূর্বেই বলেছি যে, হাবিল-কাবিল এক ভাই অন্য ভাইকে হত্যা করেছিল। লোকে যাতে মনে না করে যে, শিশুরা নিষ্পাপ সেজন্য গীতসংহিতা পুস্তকে মহামতি দায়ুদ লিখেছেন,

“দেখ, অপরাধে আমার জন্ম হইয়াছে, পাপে আমার মাতা আমাকে গর্ভে ধারণ করিয়াছিলেন।”-(গীতসংহিতা ৫১ঃ৫)
আরও লেখা আছে, “দুষ্টগণ গর্ভ হইতেই বিপথগামী, তাহারা জন্মাবধি মিথ্যা কহিতে কহিতে ভ্রমপথে বেড়ায়। -(গীতসংহিতা ৫৮ঃ৩)

কিন্তু বর্তমান সময়ে (অধিকাংশ) পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিভিশন ও রেডিও ব্যবহার করে যে বিষয় গুলো অর্জিত হয় তা কতটা আমাদের প্রজন্মের জন্য মঙ্গলময় তা কিন্তু ভাবনার বিষয়। একটা সময় ছিল যখন শিশুদের খেলনার জন্য মাটির আসবাবপত্র, দড়ি, ঘোড়া, লাটিম, বল ইত্যাদি ব্যবহার হত। বর্তমানে সেখানে খেলনা পিস্তল, তরবারী, সফ্টওয়ার গেম ইত্যাদি ব্যবহার হয় যার মাধ্যমে প্রতিহিংসা ও আক্রমন করা শিখে। এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমারা যেমন আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো হারাচ্ছি, তেমনি কোমলমতি শিশুদের মানসিক ভাবে ক্ষুদে সন্ত্রাসবাদ শিখাচ্ছি। শুধু বিভিন্ন ধরনের হামলা কিংবা তান্ডব চালালেই সন্ত্রাসবাদ বলা যাবে না। অনেক অদৃশ্য সন্ত্রাস বর্তমানে তৈরী হচ্ছে। এর জন্য বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাগুরুদের অবমূল্যায়ন করাকে আমি দায়ী করছি। প্রত্যেক মানুষের অবশ্যই একজন না একজন গুরু আছেন। কেউ যদি বলেন আমার কোন গুরু নেই তাহলে তার জন্য দার্শনিক এ্যারিষ্টটল এর সাথে তাল মিলিয়ে বলতে চাই, ‘যার কোন গুরু নেই সে হয় জন্তুু, না হয় প্রেতাত্মা’। তবে বাইবেল খুললে আমরা প্রেতাত্মাদেরও দলপতি ও গুরু আছে বলে দেখতে পাই। তাই বলা যায়, গুরুহীন মানুষ নেই। বর্তমানে আমাদের দেশের ছাত্রসমাজের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন ছাত্র কোন শিক্ষককে কতখানি হেনস্তা করতে পারল। কতখানি অপমান, লাঞ্ছনা আর নিচে নামাতে পারল; যার প্রমাণ আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে স্কুলের ছাত্রদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত, কলেজের ম্যাডাম ছাত্রদের দ্বারা উত্ত্যক্ত হয়েছেন। আর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তো আরো শোচনীয়। শির্ক্ষার্থীদের হাতে অধ্যাপকেরা লাঞ্ছিত যেন ডাল-ভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। যেখানে আমাদের ছাত্রসমাজ শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতার মূলমন্ত্র ভুলে গিয়ে শিক্ষক মানেই একটি ঘৃণিত ও অবহেলিত চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।

তবে ভাললাগে যখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য জনসম্মুক্ষে তার শিক্ষাগুরুকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন। আমি নিজেও চেষ্টা করি আমার গুরুদের ভক্তিপূর্ণ সম্মান দিতে (যদিও অনেক অসম্মান রয়ে যায়)। একজন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের চর্চাকারী হিসেবে বিশ্বে বহুল প্রচলিত ধর্মসমূহ ও ধর্মগ্রন্থ সমূহ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা আছে বলে আত্মবিশ্বাস আছে। কোন ধর্মগ্রন্থেই গুরুর মর্যাদা নিয়ে আপোস করেননি। আমার ন্যূনতম ধারনার আলোকে পবিত্র বাইবেলেই গুরুর সম্মান হিসেবে গুরুকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। আমি শুরুতেই পবিত্র বাইবেলের যে পদটি উল্লেখ করেছি সেটি আবারও তুলে ধরতে চাই।

“তাহাকে (গুরুকে) শিরোধার্য কর, সে তোমাকে উন্নত করিবে, যখন তাহাকে (শিষ্যকে) আলিঙ্গন কর, সে তোমাকে মান্য করিবে।” -(হিতোপদেশ ৪ঃ৮)

উক্ত পদে গুরুকে যে মহান সম্মান দিয়েছেন এর বেশি সম্মানের কোন স্তর আছে বলে আমার জানা নেই। যেহেতু বাইবেলের ঈশ্বর সদাপ্রভূ ছাড়া অন্য কাউকে ভজনা বা পূজা করা যাবেনা, সেহেতু আমি গুরুভজন বা পূজণীয় কথা গুলো বাদ দিচ্ছি। গুরুকে ও তার শিক্ষাকে যদি শিরোধার্য না করি তবে বাইবেল ও গুরু উভয়কেই অবজ্ঞা করছি।

পবিত্র বাইবেলে গুরুকে মহান সম্মান দিয়েছেন তা আমরা প্রভূ যিশু খ্রিষ্টের বিভিন্ন শিক্ষার মধ্যে দেখতে পাই। তিনি স্বয়ং ঈশ্বর হওয়া সত্ত্বেও গুরুর কাছে শিক্ষা নিয়েছেন। যেমনটি লেখা আছে,

“পরে বালকটি বাড়িয়া উঠিতে ও বলবান হইতে লাগিলেন, জ্ঞানে পূর্ণ হইতে থাকিলেন; আর ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাঁহার উপরে ছিল। তাঁহার পিতামাতা প্রতিবৎসর নিস্তার-পর্বের সময়ে যিরূশালেমে যাইতেন। তাঁহার বারো বৎসর বয়স হইলে তাঁহারা পর্বের রীতি অনুসারে যিরূশালেমে গেলেন; এবং পর্বের সময় সমাপ্ত করিয়া যখন ফিরিয়া আসিতেছিলেন, তখন বালক যীশু যিরূশালেমে রহিলেন; আর তাঁহার পিতামাতা তাহা জানিতেন না, কিন্তু তিনি সহযাত্রীদের সঙ্গে আছেন, মনে করিয়া তাঁহারা একদিনের পথ গেলেন; পরে জ্ঞাতি ও পরিচিত লোকদের মধ্যে তাঁহার অন্বেষণ করিতে লাগিলেন; আর তাঁহাকে না  পাইয়া তাঁহার অন্বেষণ করিতে করিতে যিরূশালেমে ফিরিয়া গেলেন। তিন দিনের পর তাঁহারা তাঁহাকে ধর্মধামে পাইলেন; তিনি গুরুদের মধ্যে বসিয়া তাঁহাদের কথা শুনিতেছিলেন ও তাঁহাদিগকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন।  -(লূক ২ঃ৪০-৪৬)

বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে গুরুর মর্যাদা যে বিলুপ্তপ্রায় সেটি অনুধাবন করা যায়। আমি যদি গুরুর মর্যাদা না দিতে জানি তবে এতকিছু বলে বাচালগিরি করার দরকার নেই। চার বছর বয়সে গৃহ বিদ্যাপিঠে আমি ছাত্রত্বের ও চরিত্র গঠনের তাগিদ পেয়েছিলাম। আমার প্রথম পঠিত বইটি ছিল শ্রী প্রণত বসাক রচিত ‘আদর্শ লিপি’। সেখানে স্বর লিপি ও ব্যঞ্জন লিপি দিয়ে তৈরী বাক্য গুলো ছিল নৈতিক চরিত্র, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, শ্রদ্ধা-ভক্তি শেখার অগ্রপাঠ। যেমনঃ

স্বর লিপিঃ ব্যঞ্জন লিপিঃ
অ = অসৎ সঙ্গ ত্যাগ কর। ক = কর্ম কর ভাল রবে।
আ = আলস্য দোষের আকর। খ = খর্ব করিও না।
ই = ইক্ষু রস অতি মিষ্টি। গ = গুরুজনে কর নতি।
ঈ = ঈশ্বরকে বন্দনা কর।
উ = উগ্রভাব ভাল নয়।…….. ইত্যাদি।

আর বর্তমানে শিশু শিক্ষা নামে কোন বই বাজারে আছে বলে আমার জানা নেই। আর যদি থেকেও থাকে তবে তার ভিতরে কি যে আছে তা হয়তো আপনাদের অজানা নয়। শিশুদের জন্য রচিত এক চকচকে মলাটের বইয়ে অদ্ভুদ কিছু অশিক্ষা দেখলাম। যেমনটি লেখা ছিল;
অ = অন্যের গাছে আম ধরে।
আ = আমটি আমি খাব পেড়ে।
ই = ইদুর ছানা ভয়ে মরে।
ঈ = ঈগল পাখি আকাশে উড়ে।
প্রাথমিক স্তরের আর একটি গণিত বইয়ে দেখলাম, ৬৯ লিটার দুধের সাথে ৩৮ লিটার পানি মিশালে কয় লিটার হবে….! আসলে দোষটা যে কার সেবিষয়টি আমি এখনো বুঝতে পারছিনা, শিক্ষা ব্যাবস্থার নাকি শিক্ষার্থীদের? যে শিক্ষায় নৈতিক চরিত্র, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, শ্রদ্ধা-ভক্তি নেই, সেখান থেকে ভাল কিছু আশা করা অসারতা ছাড়া আর কিছুই না।

ছোট সময়ে পাঠশালার গুরুজনরা আমাদের ভুলের কারণে শাস্তি হিসেবে কান ধরে উঠবস করাতেন। আর এ যুগে দেখি গ–মূর্খের দল শিক্ষা গুরুকেই কান ধরে উঠবস করায়। এ হল আমাদের গুরুর মর্যাদা। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড হয় তবে যারা শিক্ষা কর্তা তারা কি জাতির চাকর? গুরুজনদের শেষকালের পরিনতি যে তত একটা সুখকর হবেনা সেটা পবিত্র বাইবেলে উল্লেখ আছে। তবে সাথে গুরুদের ভক্তি না করলে তার ভয়াবহতাও অসহনীয় কঠিন হবে সেটিও বলা হয়েছে। যেমনটি লেখা আছে, যিশু বলেন,
“তোমরাও তোমাদের পিতৃপুরুষদের পরিমাণ পূর্ণ কর। সর্পেরা, কালসর্পের বংশেরা, তোমরা কেমন করিয়া বিচারে নরকদ- এরাইবে? এই কারণ দেখ আমি তোমাদের নিকট ভাববাদী, বিজ্ঞ ও অধ্যাপকদিগকে প্রেরণ করিব, তাহাদের মধ্যে কতক জনকে তোমরা বধ করিবে ও ক্রুশে দিবে, কতক জনকে তোমাদের সমাজ-গৃহে কোড়া মারিবে, এবং এক নগর হইতে আর এক নগরে তাড়না করিবে।” -(মথি ২৩ঃ৩২-৩৪)

বিশ্বের মধ্যে শুধু মাত্র বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে শিক্ষা গুরুদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়। এ লজ্জা গোটা জাতির। মনে রাখতে হবে শিক্ষা গুরু ছাড়া কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতিও দেশের প্রধান হতে পারেননা। আমরা দেখেছি আমাদের প্রভু যিশুরও কিন্তু শিক্ষা গুরু ছিলেন এবং তিনিও পৃথিবীর সবচেয়ে মহান ও সম্মানিত গুরু। যিশু খ্রিষ্টের সমসাময়িক শিষ্যরা কিন্তু তাকে ‘গুরু’, ’প্রভূ’ বলে সম্বোধণ করতেন। ইতিপূর্বে বলেছি যে পবিত্র বাইবেলে গুরুকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। যেমনটি লেখা আছে, যিশু বলেন,
 “শিষ্য গুরু হইতে বড় নয়, এবং দাস কর্তা হইতে বড় নয়।”-(মথি ১০ঃ২৪)

ছেলে-মেয়েরা পাপ নিয়ে জন্মায় বলে তারা স্বাভাবিক ভাবেই পাপের দিকে ফেরে। কেননা শাস্ত্র বলে;
“বালকের হৃদয়ে অজ্ঞানতা বাঁধা থাকে, কিকন্তু শাষন-দ- তাহা তাড়াইয়া দিবে। -(হিতোপদেশ ২২ঃ১৫) 

আমরা এতদিন পুরুষদেরকে সন্ত্রাসবাদ করতে দেখেছি। এখন নারীরাও এ কুৎসিত কাজে বেশ ঝুকছে। শাষন করতে হবে সম্মিলিত ভাবে যে শাষনে কোন বৈষম্য থাকবেনা। আপনি আপনার সন্তানকে সঠিক পথের শিক্ষা দিন। কেননা হিতোপদেশ ২২ঃ৬ পদে লেখা আছে,

 “বালককে তাহার গন্তব্য পথানুরূপ শিক্ষা দেও, সে প্রাচিন হইলেও তাহা ছাড়িবে না।” 

এই পদ থেকে অনেকে খুব সান্ত¡না পান। অনেকে মনে করেন আমার সন্তানকে ঠিকমত মানুষ করছি, সে অনেক ভাল ভাবে বেড়ে উঠছে। আসলে প্রতিজন মানব সন্তানের বেড়ে ওঠার একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। তাদের বয়সের সাথে বৃদ্ধি হয়। তারা বৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে বেড়ে ওঠে। সাথে সাথে তাদের স্বভাব, চরিত্র, ও মানসিক বিকাশ সাধিত হয়। তাদের বেড়ে ওঠার ভিন্ন সময়ে তাদের নিয়মানুগ শিক্ষার আলোকে বৃদ্ধি পেতে দিলে সুফল পাওয়া যাবে। কেননা পবিত্র শাস্ত্র বলে,
  “জ্ঞানবান পুত্র পিতার আনন্দ জন্মায়; কিন্তু হীনবুদ্ধি লোক মাতাকে তুচ্ছ করে।” -(হিতোপদেশ ১৫ঃ২০)

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নাস্তিক্যবাদের প্রভাব থাকায় নৈতিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌছেছে। উগ্র সন্ত্রাসবাদ থেকে উতরানোর উপায় হল নৈতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া। আমরা যদি পবিত্র বাইবেলের হিতোপদেশ পুস্তক থেকে দেখি তবে দেখতে পাব কিভাবে সদাপ্রভূ ঈশ্বর নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি রচনা করেছেন। পবিত্র বাইবেলের হিতোপদেশ পুস্তকটি উপদেশ, প্রবাদ ও আপ্তবাক্যের শৈলীতে নীতিশিক্ষা ও ধর্মীয় উপদেশের একটি সম্ভার। সুতরাং সন্ত্রাসবাদ দমনেও নৈতিকতা চর্চার জন্য অবশ্যই হিতোপদেশ পুস্তকটি অনন্য।

-লেখকঃ তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব শিক্ষক।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রাইষ্টবিডি রেডিও