আমাদের বড়দিন কেমন!

একটি সুখী পরিবার। স্বামী-স্ত্রী এবং একজন ছোট্ট মেয়ে নিয়ে একটি সুখের সংসার। মেয়েটির বয়স আনুমানিক এক বৎসরের কাছাকাছি হবে। সবেমাত্র আধো আধো ভাষায় কথা বলতে শিখেছে। বয়স যেহেতু এক বৎসরের কাছাকাছি তাই ইতিপূর্বে সে কখনো বড়দিন দেখে নাই। বাবা-মায়ের কাছ থেকে বড়দিনের কথা শুনলেও সেটি তার বোঝার কথা নয়। বৎসর শেষে যখন বড়দিন আসছে তখন মেয়েটির বাবা মা বাভিন্নভাবে পরিকল্পনা করছে, কিভাবে তাদের প্রথম সন্তানকে নিয়ে বড়দিন উৎযাপন করবে। বাবা-মায়ের মনেও অনেক আনন্দ। তাদের অতি আদরের প্রথম সন্তানকে নিয়ে এবার বড়দিন করবে। বড়দিনের সমস্ত কেনা-কাটা শেষ। অতি আদরের সন্তানের জন্যও অনেক সুন্দর দামি পোশাক কিনেছেন বড়দিনে পড়াবেন বলে। আর মাত্র এক রাত পরেই বড়দিন।

ঘুম থেকে অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু ভোর বেলাতেই উঠেছেন স্বামী-স্ত্রী। কারণ সকালের পিঠা-পায়েশ রান্না করে সময় মত বড়দিনের উপাসনায় যাওয়ার জন্য বিশেষ সাজ-গোজ এবং তাদের আদরের সোনামানিকে সাজানো ইত্যাদি অনেক ব্যস্ততা আজ আছে। পিঠা-পায়েশ রান্না শেষে স্বামী-স্ত্রী কিছু নাস্তা করে প্রস্তুতি গ্রহন করছেন বড়দিনের উপাসনায় যাওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে আদরের মেয়েকেও ডাকা হয়েছে ঘুম থেকে। মা-বাবা বলছেন, “মা লক্ষী তাড়াতাড়ি উঠ আমরা বড়দিনে যাবো।” মেয়েটি বাবা-মায়ের সাজগোজ দেখে এবং বড়দিনের কথা শুনে উঠে পড়ল। কিছুটা হলেও বুঝতে পারলো বাবা-মা কোথাও যাবেন। মেয়েটি ঘুম থেকে উঠেই কান্না শুরু করে দিল এবং বলতে লাগলো, “আমি বড় ডিম খাব, আমি বড় ডিম খাব।” মা তড়িঘড়ি করে একটি ডিম সিদ্ধ করে মেয়েকে দিল, কিন্তু মেয়েটির কান্না থামল না। সে আরো জোরে কেঁদে বলতে থাকল, “আমি বড় ডিম খাব, আমি বড় ডিম খাব।” মা চিন্তা করলেন হয়ত সে এর চেয়ে বড় ডিম চাচ্ছে, মা সব গুলো ডিম থেকে যে টি একটু বড় মনে হলো সেটি সিদ্ধ করে দিল। কিন্তু না কিছুতেই মেয়েটির কান্না থামাতে পারলেন না। এদিকে উপাসনার সময়ও প্রায় ঘনিয়ে আসছে। তাই তারা অনেক তাড়াহুড়া করতে লাগলেন। তারা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির কান্না অবস্থায়ই উপাসনার দিকে রওনা হলেন ।

তারা উপাসনার ঘরের কাছাকাছি আসতেই দেখতে পেলেন, বড়দিনের সাজে উপাসনা ঘর এবং তার আশপাশ সাজানো হয়েছে। তখনও একই ভাবে তাদের আদরের সোনামনি কাঁদছে। বাবা-মা চিন্তা করলেন আমাদের এবারের বড়দিনের উপাসনা বুঝি আর করা হবে না। ইতিমধ্যে তারা উপাসনা গৃহের কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু একি! হঠাৎ মেয়েটির কান্না বন্ধ হয়ে গেল। মেয়েটি কান্নার পরিবর্তে এখন হাসছে। আশ্চর্য্য হলেন স্বামী-স্ত্রী তারা কিছুই বুঝতে পারলেন না। কিছু সময় পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আসলে জানেন কি, মেয়েটি বড় ডিম খাওয়ার কথা বলে নাই, বলেছে বড়দিনে যাওয়ার কথা। মেয়েটি আধো আধো ভাষায় কথা বলতো বলে বাবা-মা বুঝতে পারেন নাই। মেয়েটি কি বলছে?
প্রিয় পাঠক, এটি একটি পুরাতন গল্প ‘আমরা’ অনেকেই জানি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো- আমরা যারা বৎসরের পর বৎসর ধরে বড়দিন পালন করছি। আমরা কি প্রকৃত অর্থে বড়দিনের তাৎপর্য বুঝতে পারি?

২৫ ডিসেম্বর আমরা বড়দিন হিসাবে পালন করছি। কিন্তু ভৌগলিক অবস্থায় সময়ের দিক থেকে কি ঐ দিনটি বড় ছিল? মোটেও বড় ছিল না। অন্যান্য দিনের তুলনায় ২৫ ডিসেম্বর দিন হিসাবে বড় নয়, তাহলে কেন এই দিনকে বড়দিন বলা হয়?
প্রিয় পাঠক, সময়ের দিক থেকে বড় না হলেও এই দিনটি সত্যিকার অর্থে অন্যান্য দিনের তুলনায় বড়। কারণ এই দিনে পৃথিবীর হারানো পাপী মানুষের জন্য একজন ত্রানকর্তা জন্ম গ্রহণ করেছেন (লূক ২:১১পদ)।

প্রিয় সুধী, আপনি কি জানেন ঈশ্বর কোথায় এবং কবে বড়দিনের পরিকল্পনা করেছিলেন? দয়া করে আদিপুস্তক ৩:১৫ পদ দেখুন। মানব জাতি পাপে পতনের পর ঈশ্বর এখানে প্রথম একজন মুক্তিদাতার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি মানুষ হিসাবে এবং হেবল, শেথ, নোহ, শেম, অব্রাহাম, ইসহাক, যাকোব, যিহুদা ও দায়ূদের মধ্য দিয়ে আসবেন এবং খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে এই প্রতিজ্ঞাপূর্ণ হবে (মথি ১:১ গালাথীয় ৪:৪ পদ)।

আপনি যদি ইতিহাস দেখেন তাহলে দেখবেন যে, পৃথিবীর শুরু থেকেই অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত মহাপুরুষ, দেবতা, ভাববাদী, নবীগন এ জগতে এসেছেন। সোনাতন ধর্মাবলম্বী লোকদের হিসাব মতে, চার যুগের চারজন মহাপুরুষ (অবতার) এসেছেন। মুসলিম ধর্ম মতে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে শেষ নবী হিসাবে ধরা হয়। আমিও স্বীকার করি যে, জগতের পত্তনাবধি এখন পর্যন্ত অনেক মহাপুরুষ নবী ভাববাদীগন এই পৃথিবীতে এসেছেন। তারা এসেছেন ভাল-ভাল উপদেশ দিয়েছেন; অনেকে অনেক অলৌকিক ক্ষমতাও দেখিয়েছেন; কিন্তু তারা চলে গেছেন আর ফিরে আসেন নাই শ্বাস্ত্র মতে কোনদিন আসবেনও না। কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কি কেউ পাপী/গুনাগার মানুষের জন্য পরিত্রান/নাজাৎ সাধন করতে পেরেছেন? আজ থেকে দুই হাজার বৎসর পূর্বে যীশু (ত্রানকর্তা) এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। একটি মাত্র কারণে তা হলো হারানো পাপী মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করবার জন্য (দেখুন মথি ১:২১-২৩ পদ)। এখানেই শেষ নয় পাপী মানব জাতিকে উদ্ধার করবার জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে (যিশাইয় ৫৩:৫ পদ)। রোমীয় ৫:৬ এবং ৮ পদে বলা হয়েছে- কেননা যখন আমরা শক্তিহীন ছিলাম; তখন খ্রীষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের নিমিত্ত মরিলেন (৮ পদ) কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁর নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম; তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রান দিলেন। সুতরাং এটিই হলো বড়দিনের প্রকৃত তাৎপর্য।

আপনি এই তালিকাটি মিলিয়ে দেখতে পারেন যীশুর জন্ম সম্পর্কে

ভাববানী বিষয়বস্তু পূর্ণতা
আদিপুস্তক ৩:১৫ যীশুর জন্ম নারীর বংশে গালাতীয় ৪:৪
আদিপুস্তক ১২:৩ আব্রাহামের বংশে মথি ১:১
আদিপুস্তক ১৭:১৯ ইসহাকের বংশে লূক ৩:৩৪
গণনা ২৪:১৭ যাকোবের বংশে মথি ১:২
আদি ৪৯:১০ যিহুদা বংশে লূক ৩:৩৩
যিশাইয় ৯:৭ দায়ূদের বংশে লূক ৩:৩২-৩৩
মীখা ৫:২ যীশু ব্যৈথলেহমে জন্মিবেন লূক ২:৪,৫,৭
দানি ৯:২৫ তাঁহার জন্মের সময়ের আদেশ লূক ২:১,২
যিশাইয় ৭:১৪ তিনি কুমারীর গর্ভে জন্মিবেন লূক ১:২৬-২৭, ৩০-৩১
যিরমিয় ৩১:১৫ তাঁর জন্মের সময় শিশুদের হত্যা মথি ২:১৬-১৮
হোশেয় ১১:১ তাঁর মিশর পলায়ন হবে মথি ২:১৪,১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

নতুন লেখা

ঈশ্বর আপনার সঙ্গে চলছেন

https://www.youtube.com/watch?v=GhqCxrHrYvs আমরা এই সময়ে করোনার আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশে ভয়াবহ আম্পান ঝড়ের মোকাবেলা করলাম। করোনার এই...

গান বই -এর এন্ড্রয়েড এ্যাপ

গীর্জায় বা যে কোন ধর্মীয় সভায় বাইবেলের পাশাপাশি গান বই -এর কোন বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মে প্রায় সবার ফোনেই...

জেলখানা ও ভেঙে যাওয়া জাহাজ (পৌল)

পৌল যিরূশালেমে এসেছেন বেশী দিন হয় নি, কিন্তু এরই মধ্যে পৌলকে নিয়ে আরেকটি হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। যিহূদীরা ভেবেছিল...

পৌলের প্রচার যাত্রা

সিরিয়া দেশের আন্তিয়খিয়া শহরে অনেক লোক যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করে খ্রীষ্টিয়ান হচ্ছিল। তাই সেখানে যীশুর বিষয় শিক্ষা দেবার জন্য...

পিতর ও কর্ণীলিয়

এদিকে পুরোহিতদের অত্যাচারে যারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল পিতর তাদের কাছে গিয়ে দেখাশুনা করতে লাগলেন। তিনি যখন যীশুর বিষয়ে...

আপনার ভাল লাগতে পারেএকই লেখা
আপনার জন্য লেখা