আমাদের বিশ্বাস

পবিত্র বাইবেলঃ আমরা পবিত্র বাইবেল বিশ্বাস করি। যীশু বলেছেন, আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আকাশ ও পৃথিবী শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যতদিন না আইন -কানুনের সমস্ত কথা সফল হয় ততদিন সেই আইন -কানুনের এক বিন্দু কি এক মাত্রা মুছে যাবে না (মথি ৫:১৮)। আমাদের বিশ্বাস পবিত্র বাইবেল ঈশ্বরের কাছে থেকে এসেছে। কারন ঈশ্বর বলেছেন, পবিত্র শাস্ত্রের প্রত্যেকটি কথা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে এবং তা শিক্ষা, চেতনা দান, সংশোধন এবং সৎ জীবনে গড়ে উঠবার জন্য দরকারী, (২তিমথীয় ৩:১৬-১৭)। তবে সব কিছুর উপরে এই কথা মনে রেখো যে, শাস্ত্রের মধ্যেকার কোন কথা নবীদের মনগড়া নয়, কারণ নবীরা তাঁদের ইচ্ছামত কোন কথা বলেন নি; পবিত্র আত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়েই তাঁরা ঈশ্বরের দেওয়া কথা বলেছেন(২পিতর ১:২১)। তাই আমাদের বিশ্বাস শাস্ত্রের প্রতিটি কথা ঈশ্বর প্রদত্ত।

ঈশ্বরঃ আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বর সদাপ্রভু এক এবং অদ্বিতীয়। “ইস্রায়েলীয়েরা, শোন, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এক । তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের সমস্ত অন্তর, সমস্ত প্রাণ ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালবাসবে। (দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৪-৫; কলসীয় ১:১৬) আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দয়া, ঈশ্বরের ভালবাসা এবং পবিত্র আত্মার যোগাযোগ-সম্বন্ধ তোমাদের সকলের অন্তরে থাকুক (২করিন্থীয় ১৩:১৪)। যখন পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টি হয় নি, জগৎ ও পৃথিবীর সৃষ্টি হয় নি, তার আগে থেকেই অনন্তকাল পর্যন্ত তুমিই ঈশ্বর(গীত ৯০:২)। যিনি সমস্ত যুগের রাজা, যাঁর কোন ক্ষয় নেই এবং যাঁকে দেখা যায় না, চিরকাল সেই একমাত্র ঈশ্বরের সম্মান ও গৌরব হোক। আমেন(১তিমথীয় ১:১৭ )। সে আকাশের এক দিক থেকে ওঠে আর ঘুরে অন্য দিকে যায়; তার তাপ থেকে কিছুই রেহাই পায় না(গীত ১৯:৬ )। “আমি সদাপ্রভু, আমার কোন পরিবর্তন নেই। সেইজন্য হে যাকোবের বংশধরেরা, তোমরা ধ্বংস হচ্ছ না ( মালাখি ৩:৬)।

যীশুঃ আমরা যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বরত্বকে বিশ্বাস করি। ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখে নি। তাঁর সংগে থাকা সেই একমাত্র পুত্র, যিনি নিজেই ঈশ্বর, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন। (যোহন ১:১৮)। এই পুত্রই হলেন অদৃশ্য ঈশ্বরের হুবহু প্রকাশ। সমস্ত সৃষ্টির আগে তিনিই ছিলেন এবং সমস্ত সৃষ্টির উপরে তিনিই প্রধান, ( কলসীয় ১:১৫)। “একজন কুমারী মেয়ে গর্ভবতী হবে, আর তাঁর একটি ছেলে হবে; তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানূয়েল।” এই নামের মানে হল, আমাদের সংগে ঈশ্বর। (মথি ১:২৩)। আমাদের পাপ দূর করবার জন্য খ্রীষ্ট তাঁর নিজের জীবন উৎসর্গ করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেছেন। কেবল আমাদের পাপ নয়, কিন্তু সমস্ত মানুষের পাপ দূর করবার জন্য তিনি তা করেছেন। (১যোহন ২:২)।

পবিত্র আত্মাঃ আমরা পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস করি। কোন সৎ কাজের জন্য তিনি আমাদের উদ্ধার করেন নি, তাঁর করুণার জন্যই তা করলেন। পবিত্র আত্মার দ্বারা নতুন জন্ম দান করে ও নতুন ভাবে সৃষ্টি করে তিনি আমাদের অন্তর ধূয়ে পরিষ্কার করলেন, আর এইভাবেই তিনি আমাদের উদ্ধার করলেন (তীত ৩:৫)। কিন্তু ঈশ্বরের আত্মা যদি তোমাদের অন্তরে বাস করেন তবে তোমরা তো পাপ-স্বভাবের অধীন নও বরং পবিত্র আত্মার অধীন। যার অন্তরে খ্রীষ্টের আত্মা নেই সে খ্রীষ্টের নয় ( রোমীয় ৮:৯)। আমরা যিহূদী কি অযিহূদী, দাস কি স্বাধীন, সকলেরই একই পবিত্র আত্মার দ্বারা একই দেহের মধ্যে বাপ্তিস্ম হয়েছে। আমরা সকলেই সেই একই পবিত্র আত্মাকে পেয়েছি।(১করিন্থীয় ১২:১৩)।

স্বর্গদূতঃ আমরা স্বর্গদূতে বিশ্বাস করি। কেবল তুমিই সদাপ্রভু। তুমিই আকাশ, মহাকাশ ও তার মধ্যেকার সব কিছু, পৃথিবী ও তার উপরকার সব কিছু এবং সাগর ও তার মধ্যেকার সব কিছু তৈরী করেছ। তুমিই সকলের প্রাণ দিয়েছ এবং স্বর্গের সকলেই তোমার উপাসনা করে। (নহিমিয় ৯:৬), হে তাঁর সমস্ত স্বর্গদূত, তাঁর প্রশংসা কর; হে তাঁর সমস্ত শক্তিদল, তাঁর প্রশংসা কর (গীত ১৪৮:২), স্বর্গদূতেরা কি সকলেই সেবাকারী আত্মা নন? যারা পাপ থেকে উদ্ধার পাবে তাদের সেবা করবার জন্যই তো তাঁদের পাঠানো হয় (ইব্রীয় ১:১৪)।

প্রার্থনাঃ আমরা বিশ্বাস করি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় এবং শক্তিশালী হয়। “আমি দায়ূদের বংশ ও যিরূশালেমের বাসিন্দাদের উপরে আমার আত্মা ঢেলে দেব; তিনি দয়া করেন ও প্রার্থনার মনোভাব দেন। তাতে তারা আমার দিকে, অর্থাৎ যাঁকে তারা বিঁধেছে তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখবে। একমাত্র সন্তানের জন্য বিলাপ করবার মত করে তারা তাঁর জন্য বিলাপ করবে এবং প্রথম সন্তানের জন্য যেমন শোক করে তেমনি ভীষণভাবে শোক করবে।(সখরিয় ১২:১০) সেই দিনে তোমরা আমাকে কোন কথাই জিজ্ঞাসা করবে না। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা আমার নামে পিতার কাছে যা কিছু চাইবে তা তিনি তোমাদের দেবেন। এখনও পর্যন্ত তোমরা আমার নামে কিছুই চাও নি। চাও, তোমরা পাবে যেন তোমাদের আনন্দ পূর্ণ হয়।(যোহন ১৬:২৩-২৪)

মনুষ্যত্বঃ আমরা বিশ্বাস করি মানুষ ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন। তারপর ঈশ্বর বললেন, “আমরা আমাদের মত করে এবং আমাদের সংগে মিল রেখে এখন মানুষ তৈরী করি। তারা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী, পশু, বুকে-হাঁটা প্রাণী এবং সমস্ত পৃথিবীর উপর রাজত্ব করুক।” পরে ঈশ্বর তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন। হ্যাঁ, তিনি তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন, সৃষ্টি করলেন পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে। (আদি ১:২৬-২৭)।

পরিত্রাণঃ আমরা পরিত্রাণে বিশ্বাস করি। ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে তোমরা পাপ থেকে উদ্ধার পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা ঈশ্বরেরই দান। এটা কাজের ফল হিসাবে দেওয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। (ইফিষীয় ২:৮-৯)।

মন্ডলীঃ আমরা বিশ্বাস করি মন্ডলী যীশু খ্রীষ্টের দেহ। ঈশ্বর সব কিছু খ্রীষ্টের পায়ের তলায় রেখেছেন এবং তাঁকে সব কিছুর অধিকার দিয়েছেন, আর তাঁকেই মণ্ডলীর মাথা হিসাবে নিযুক্ত করেছেন। এই মণ্ডলী আসলে খ্রীষ্টেরই দেহ। যিনি সব দিক থেকে সব কিছু পূর্ণ করেন সেই খ্রীষ্টের পূর্ণতা হল এই মণ্ডলী। (ইফিষীয় ১:২২-২৩)। এছাড়া তাঁর গুপ্ত উদ্দেশ্য যে কিভাবে কাজে লাগানো হবে তা প্রকাশ করবার ভারও তিনি আমার উপর দিয়েছেন। সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর এত কাল ধরে তাঁর সেই উদ্দেশ্য গুপ্ত রেখেছিলেন। তিনি তা করেছিলেন যেন খ্রীষ্টের মণ্ডলীর মধ্য দিয়ে স্বর্গের সমস্ত শাসনকর্তা ও ক্ষমতার অধিকারীদের কাছে বিভিনড়বভাবে প্রকাশিত ঈশ্বরের জ্ঞান এখন প্রকাশ পায়। এটাই ছিল তাঁর চিরকালের ইচ্ছা, আর সেই ইচ্ছা তিনি আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুর মধ্য দিয়ে পূরণ করেছেন।(ইফিষীয় ৩:৯-১১)

বাপ্তিস্মঃ আমরা বাপ্তিস্ম বিশ্বাস করি। এইজন্য তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতির লোকদের আমার শিষ্য কর। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের বাপ্তিস্ম দাও। আমি তোমাদের যে সব আদেশ দিয়েছি তা পালন করতে তাদের শিক্ষা দাও। দেখ, যুগের শেষ পর্যন্ত সব সময় আমি তোমাদের সংগে সংগে আছি।” (মথি ২৮:১৯-২০)। যারা তাঁর কথা বিশ্বাস করল তারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করল এবং শিষ্যদের দলের সংগে সেই দিন ঈশ্বর কমবেশ তিন হাজার লোককে যুক্ত করলেন। বিশ্বাসীদের চালচলনসেই লোকেরা প্রেরিত্‌দের শিক্ষা শুনত, তাঁদের সংগে এক হয়ে প্রভুর ভোজ গ্রহণ করত এবং প্রার্থনা করে সময় কাটাত। (প্রেরিত ২:৪১-৪২)। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি যে, খ্রীষ্টের প্রতিটি সদস্য এবং সদস্যাকে অবশ্যই জলে ডুবে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম গ্রহন করা উচিত।

ভবিষ্যতে যা হবেঃ আমরা বিশ্বাস করি যীশু খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনে। আর আমাদের মহান ঈশ্বর এবং উদ্ধারকর্তা যীশু খ্রীষ্টের মহিমাপূর্ণ প্রকাশের আনন্দ-ভরা আশা পুর্ণ হবার জন্যই আগ্রহের সংগে অপেক্ষা করি। (তীত ২:১৩), প্রভুর শিক্ষামতই আমরা তোমাদের বলছি, আমরা যারা জীবিত আছি এবং প্রভুর ফিরে আসা পর্যন্ত জীবিত থাকব, আমরা কোনমতেই সেই মৃতদের আগে যাব না। জোর গলায় আদেশের সংগে এবং প্রধান দূতের ডাক ও ঈশ্বরের তূরীর ডাকের সংগে প্রভু নিজেই স্বর্গ থেকে নেমে আসবেন। খ্রীষ্টের সংগে যুক্ত হয়ে যারা মারা গেছে তখন তারাই প্রথমে জীবিত হয়ে উঠবে। তার পরে আমরা যারা জীবিত ও বাকী থাকব, আমাদেরও আকাশে প্রভুর সংগে মিলিত হবার জন্য তাদের সংগে মেঘের মধ্যে তুলে নেওয়া হবে। আর এইভাবে আমরা চিরকাল প্রভুর সংগে থাকব। (১থিষলনীকী ৪:১৫-১৭), সেই দিন কোন আলো থাকবে না, চাঁদ ও সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে। সেই দিনটা অন্য কোন দিনের মত হবে না- দিনও হবে না, রাতও হবে না; দিনটার কথা কেবল সদাপ্রভুই জানেন। সেই দিনের শেষে আলো হবে। সেই সময় গরমকালে ও শীতকালে যিরূশালেম থেকে মিষ্টি জল বের হয়ে অর্ধেকটা পূর্ব সাগরের দিকে আর অর্ধেকটা পশ্চিম সাগরের দিকে বয়ে যাবে। সদাপ্রভুই হবেন গোটা পৃথিবীর রাজা। সেই দিন লোকে সদাপ্রভুকে একমাত্র ঈশ্বর বলে স্বীকার করবে, কেবল তাঁরই নামে উপাসনা করবে। যিরূশালেমের দক্ষিণে গেবা থেকে রিম্মোণ পর্যন্ত অরাবা সমভূমির মত হবে, কিন্তু যিরূশালেম উঁচুই থাকবে। বিন্যামীন-ফটক থেকে প্রথম ফটক ও কোণার ফটক পর্যন্ত এবং হননেলের উঁচু পাহারা-ঘর থেকে রাজার আংগুর মাড়াইয়ের স্থান পর্যন্ত গোটা শহরটা ঠিক থাকবে। সেখানে লোকজন বাস করবে; যিরূশালেম আর কখনও ধ্বংসের অভিশাপের অধীন হবে না। সে নিরাপদে থাকবে। (সখরিয় ১৪:৪-১১)।

রেডিও