ক্রাইষ্টবিডির শুরু

২০০৭ সালের জানুয়ারী মাসে আমি প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে আত্মিকভাবে  আমার ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদাতা হিসেবে গ্রহন করি। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, আমি প্রভুর রাজ্যের জন্য কাজ করব। কিন্তু তখনও আমার ধারণা ছিল, প্রভুর জন্য কাজ মানে শুধু মাত্র প্রচারমূলক কাজ করা। কিন্তু পরবর্তিতে আমি জানতে পারি যে, আমার ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। যার যার নিজস্ব প্রতিভা দিয়েও প্রভুর জন্য কাজ করা যায়। আসলে আমাদের যে প্রতিভা, তা ঈশ্বরই আমাদের দেন যেন আমরা তা তার রাজ্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করি।
কিন্তু এরপরও আরেকটা সমস্যা রয়ে গেল। আমার যে প্রতিভা, অর্থাৎ কম্পিউটার প্রযুক্তি, তাও একদম প্রাথমিক পর্যায়ে। এটুকু প্রতিভা দিয়ে প্রভুর রাজ্যের জন্য কিভাবে কাজ করা সম্ভব? তাছাড়া এ তো সম্পূর্ণ জাগতিক বিষয়। এই প্রশ্ন নিয়ে আমি অনেকের কাছেই গেলাম, কিন্তু কোন সমাধান পেলাম না। এরপর আমি প্রার্থনা শুরু করলাম এবং প্রভুর কাছেই আমার সমস্যা বললাম। এতে আমি উপলব্ধি করলাম, আমার যতটুকু জ্ঞান আছে তা দিয়েই কাজ শুরু করা উচিৎ। এটা যদি ঈশ্বরের পরিকল্পনা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই পরবর্তি পদক্ষেপগুলো বলে দেবেন।
আমি আবিষ্কার করলাম, আমাদের দেশে এমন কোন ওয়েবসাইট নেই যেখানে আমাদের দেশের খ্রীষ্টিয় কার্যক্রমের কোন তথ্য পাওয়া যায়।
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা ওয়েবসাইট খোলার। যদিও তখন ওয়েবসাইট তৈরী করা সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না। কিন্তু ওয়েবসাইট রেজিষ্ট্রেশন করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা আমার কাছে ছিল। ৮ই এপ্রিল ২০০৭ এ আমি সেই প্রতিষ্ঠানে গেলাম এবং ক্রাইষ্টবিডির ওয়েবসাইট রেজিষ্ট্রেশন করলাম।
সেই প্রতিষ্ঠানের লোকদের সাহায্য নিয়ে আমি ৪-৫ টা পেজ সেই ওয়েবসাইটে রাখলাম। কিন্তু যেহেতু আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে জানি না, তাই এই ওয়েবসাইট কিভাবে ব্যবহার যোগ্য করব তা আমার জানা ছিল না। তাই আমি আবার প্রার্থনা করলাম। আমি বললাম, আমার যতটুকু জ্ঞান আছে ততটুকু করেছি। এবার কি করতে হবে, তা বলে দাও। এ ব্যপারে আমি আর কারও সাথে আলাপ করলাম না, অপেক্ষা করতে লাগলাম। এর ঠিক পাঁচ দিন পর আমি আমার এক বন্ধুর ফোন কল পেলাম, সে বলল, তিন দিনের জন্য একটা ছোট্ট ওয়েবসাইট ডিজাইন ট্রেইনিং হবে। আমি চাইলে সেখানে যোগ দিতে পারি।

আমি বুঝলাম ঈশ্বর আমার প্রার্থনার উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যপারটা এত সহজ ছিলো না। আমি তখন একটি পরিচিত মোবাইল ফোন কম্পানিতে নতুন জয়েন করেছি এবং আমাদের একমাত্র অসুস্থতার ছুটি ছাড়া আর কোন ধরনের ছুটির সুযোগ ছিলো না। অন্য সময়ে এ নিয়ে তেমন সমস্যা হতো না, কারণ আমরা যে কোন প্রয়োজনেই অসুস্থ বলে চালিয়ে দিতাম। কিন্তু এ ব্যপারটা ছিল একদমই আলাদা। আমি ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজ দেখার জন্য চরমভাবে ক্ষুধার্ত ছিলাম। আমি অফিসে গিয়ে আমার বসকে সরাসরি বললাম, “আমি এই ট্রেইনিং-এ যোগ দিতে চাই।” তিনি সঙ্গে সঙ্গে কোন উত্তর দিলেন না। পরদিন তিনি বললেন, আমি সর্বোচ্চ দুইদিনের ছুটি পেতে পারি। কারণ দুইদিনের বেশি ছুটি কাটালে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু দুইদিন ছুটি নিলে এটা তিনি নিজ দায়িত্বে দিতে পারবেন। আমি রাজি হয়ে গেলাম এবং প্রথম দুইদিন ট্রেইনিং নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সেই ট্রেইনিং-এ প্রায় ১০-১৫ জন অংশগ্রহনকারী ছিলো। তারা সবাই ৩ দিন ট্রেইনিং নিয়েছিল, শুধু আমিই ২দিন ট্রেইনিং নিয়েছিলাম। কিন্তু দুইদিন ট্রেইনিং শেষে টিচার আমাকে একটি সিডি দিলেন এবং সেগুলি নিয়ে চর্চা করতে বললেন। আমি চর্চা শুরু করলাম এবং দিনে দিনে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে থাকলাম।

এভাবে কাজ করতে করতে যখন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ভালভাবে শিখে গেলাম, তখন ক্রাইষ্টবিডি ওয়েবসাইটকে মোটামুটি সমৃদ্ধশালী করে তুললাম। কিন্তু তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে, এবার আমার ওয়েব ডেভেলপমেন্টের চাইতে তথ্য সংগ্রহের উপরে বেশি প্রাধান্য দেয়া দরকার। কিন্তু আমি বাংলাদেশের খ্রীষ্টিয়ান সমাজ থেকে অনেক দূরে এবং তেমন কারও সাথে আমার পরিচয় নেই। আমি আবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা শুরু করলাম। এবার আমি ঈশ্বরকে বললাম, আমি খ্রীষ্টিয়ান সমাজের লোকজনদের সাথে পরিচিত হতে চাই। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই এবং সেই সব তথ্য এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার করতে চাই। এই বলে আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। তার এক সপ্তাহ পর আমি একটা খ্রীষ্টিয়ান প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কাছ থেকে ইমেইল পেলাম, তিনি আমার ওয়েবসাইট দেখেছেন এবং আমাকে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেন। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম এবং মোবাইল ফোন কম্পানির চাকরী ছেড়ে সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলাম। ফলে আমি খ্রীষ্টিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পরিচিত হতে থাকলাম এবং ক্রাইষ্টবিডিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হলাম। আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সম্পূর্ণ পথ চলা শুধুমাত্র ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুসারেই হচ্ছে এবং ঈশ্বরের কাছে আমার প্রার্থনা, যেন এভাবেই প্রভুর পরিকল্পনা মতে আমার বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারি।