জিজ্ঞাসা

গ্যাপ থিউরি কি?

আদি ১:১-২ পদে লেখা আছে “সৃষ্টির শুরুতেই ঈশ্বর মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। পৃথিবীর উপরটা তখনও কোন বিশেষ আকার পায় নি, আর তার মধ্যে জীবন্ত কিছুই ছিল না; তার উপরে ছিল অন্ধকারে ঢাকা গভীর জল। ঈশ্বরের আত্মা সেই জলের উপরে চলাফেরা করছিলেন।” গ্যাপ থিওরি অনুসারে ঈশ্বর এই পৃথিবীকে প্রাণী ও গাছপালা দ্বারা পূর্ণ অবস্থাতেই সৃষ্টি করেছেন যার প্রমাণ বর্তমানে ফসিলের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এরপর এই থিওরি বলে, কোন এক অজানা কারণে পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ বলে এই সময়ে পৃথিবীতে শয়তানের পতন হয় তাই পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে যায়। এরপরই ঈশ্বর পৃথিবীকে আবার নতুন করে তৈরি করেন। ঈশ্বর পৃথিবীতে স্বর্গ তৈরি করেন যা আদি পুস্তকে বর্ননা করা হয়েছে।

কিন্তু গ্যাপ থিওরিতে অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে। প্রথমত যদি এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই দুই পদের মধ্যে থাকত, তাহলে ঈশ্বর অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন ঈশ্বর কোন মতেই মানুষকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রাখতেন না।দ্বিতীয়ত, আদি ১:৩১ ঈশ্বর বলেছেন “চমৎকার হয়েছে” যা বলা সম্ভব হতো না যদি তখন শয়তান পতিত হয়ে পৃথিবীতে মন্দতা প্রবেশ করত।তাছাড়া ফসিলের রেকর্ড অনুসারে কোটি কোটি বছর আগে যদি পৃথিবীতে প্রাণ থাকত, তাহলে পৃথিবীতে রোগ-ব্যাধি, মৃত্যু ও দুর্দশা তখনই উপস্থিত থাকত কিন্তু বাইবেলে লেখা আছে “একটি মানুষের মধ্য দিয়ে পাপ জগতে এসেছিল ও সেই পাপের মধ্য দিয়ে মৃত্যুও এসেছিল। সব মানুষ পাপ করেছে বলে এইভাবে সকলের কাছেই মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে।” রোমীয় ৫:১২

হয়ত শুনে অবাক হবেন যে, বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান সমাজের বেশিরভাগ লোকই এই গ্যাপ থিওরিতে বিশ্বাস করেন। এর মধ্যে অনেক বড় বড় স্কলার এবং থিওলজিয়ানও রয়েছেন। আসলে গ্যাপ থিওরি বিশ্বাস করার একটি মূল কারণ হচ্ছে, আধুনিক বিজ্ঞানে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের মতবাদকে সমর্থন করা। পৃথিবীর বয়স এবং কোটি কোটি বছর আগে ডায়নোসরের বিলুপ্ত হওয়ার ব্যপারটা গ্যাপ থিওরি ছাড়া বাইবেল সমর্থন করে না। এমনকি এই গ্যাপ থিওরিকে সমর্থন করতে গিয়ে অনেক ইভাঞ্জেলিষ্ট বাইবেলের আরও অনেকগুলো অংশের আক্ষরিক সত্যতা অস্বীকার করেন। কিন্তু তারা এটা চিন্তা করে না যে, এই আক্ষরিক সত্যতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাইবেলের আরও অনেকগুলো বিষয়ের আক্ষরিক সত্যতাকেও অস্বীকার করার সুযোগ করে দেয়া হয়। যেমনঃ আদম কি সত্যিই একজন আক্ষরিক মানুষ ছিলো? এটা কিভাবে প্রমাণ হবে?

আদি ১:১ স্পষ্টভাবেই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলে এবং আদি ১:২ পদে বলে যে, পৃথিবীর কোন আকার পায় নি এবং তার উপরে অন্ধকারে ঢাকা ছিল। আর এই দুই পদের মাঝে কি হয়েছিল? নিঃসন্দেহে কিছুই হয়নি। আর ১ অধ্যায়ের বাকি অংশে বিবরণ দেয়া হয়েছে এই পৃথিবীকে ঈশ্বর ছয়দিনে কিভাবে পূর্ণ করে তুলেছেন। বাইবেল সম্পূর্ণ সত্য, আক্ষরিক, নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য (গীত ১৯:৭-৯)। বিজ্ঞান কখনও বাইবেলকে ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। বিজ্ঞানের কিছু প্রমাণবিহীন থিওরিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাইবেলের অর্থ পরিবর্তন করাটা যুক্তিপূর্ণ নয়।

রেডিও