প্রবন্ধ

জেগে ওঠো

যিশাইয় ৬০:১
উঠ দীপ্তি মতী হও, কেননা তোমার দীপ্তি উপস্থিত, সদাপ্রভুর প্রতাপ তোমার উপর উপস্থিত হইল।
আমরা যদি পবিত্র বাইবেল যিশাইয়: তার ৫৮/৫৯ অধ্যায় পড়ি তাহলে দেখা যাবে এই অধ্যায় দুটি তার সাথে নিবিড় ভাবে সম্পর্ক যুক্ত।
সেখানে প্রথমে পাপ থেকে মন পরিবর্তনের আহ্বান করা হয়েছে।

এই অধ্যায়ে যাকোবের পাপ দেখানো হয়েছে।
ইস্রায়েল যখন পাপ স্বীকার করে যে প্রার্থনা করছে, ঈশ্বর নিজে এসে তার উত্তর তাকে দিয়েছেন।
তিনি তাঁর শত্রুদের শাস্তি দেন এবং মুক্তিদাতা হিসাবে সিয়োনে উপস্থিত হন।
যিশাইয়: তার ৬০ অধ্যায়ে মহা আলো দেখা যায়- এবং সত্যিকারের বিশ্বাস করে মহাপাপ থেকে ফিরবার পর এই আলো দেখা যায়।
ইংরেজী বাইবেল পড়লে দেখা যাবে সেখানে লেখা আছে ফিউচার গ্লোরি অফ জেরুসালেম যার বাংলায় মানে হবে; খ্রীষ্টের রাজত্বের সময় জেরুশালেম গৌরব।
এরাইজ জেরুসালেম এন্ড সাইন লাইক দা সান দা গ্লোরি অফ দা লর্ড ইজ সাইনিং অন ইউ।
জেগে ওঠো জেরুশালেম এবং চাঁদের মত আলো দেও কারণ ঈশ্বরের গৌরব তোমার উপর আলো দিচ্ছে।

যিশাইয় তার ৬০: অধ্যায়ে যীশু খ্রীষ্টকে আমাদের মধ্যে বা জীবনে আলোর মতন দেখানো হয়েছে। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠি এবং একটা দিনের শুরু হয় আর এই ভাবে ২৪ ঘন্টার উপর একটা দিন নির্ভর করে। আর একটা দিনকে ভাগ করা হয় পাঁচটা স্তরে যেমন:-
প্রথম: সকাল, ভোর পাঁচ থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়কে আমরা সকাল বলে থাকি।
দ্বিতীয়: দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা বা গোধুলী, সর্বশেষ আবার আসে রাত এবং আবার সকাল।

প্রিয় সুধি, যিশাইয় তার ৬০:১ পদে জেরুশালেম জাগতে বলেছে। আমার প্রশ্ন কেন? কোন ব্যক্তির সাথে যদি আমাদের কোন দরকার/ প্রয়োজন থাকে আর সে যদি ঘুমিয়ে থাকে প্রথমে আমরা তাকে জাগাই তাঁর ঘুম ভাঙ্গাই এবং পরে আমরা তার সাথে আমাদের প্রয়োজনীয় বা দরকারী কথা বলি তদ্রুপ ঈশ্বর জেরুশালেমকে জাগতে বলেছে কারণ সে বা তারা ঘূমিয়ে আছে। কারণ আমরা জানি ঈশ্বর মানুষের সাথে কথা বলতে চায়, তিনি তাঁর পবিত্র বাক্যে বলেছেন আইস আমরা উত্তর প্রতি উত্তর করি। যিরমিয়:৩৩-৩ পদে ঈশ্বর বলেন, তুমি আমাকে আহ্বান কর আর আমি তোমাকে উত্তর দিব, এবং এমন মহৎ ও দুরূহ বিষয় তোমাকে জানাইব যাহা তুমি জাননা।
যিশাইয়: ৫৮:১-৫ পদ পড়লে দেখা যায নবীকে প্রচার করতে পাঠানো হয়েছে ।
১। তাদের যে সব পাপ আছে তা বর্ণনা করা হয়েছে। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে আসার আগে মহান ঈশ্বর যোহন বাপ্তাইজকে পাঠিয়ে ছিলেন তাদের কাছে মন পরিবর্তনের বানী প্রচার করার জন্য। মথি: ৩:১-১১পদ।

একই ভাবে যীশু খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমণের পূর্বে বাপ্তিস্ম দাতা যোহন যে ভাবে আহ্বান করে ছিলেন তেমনি আবার পৃথিবীর মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য ডাক আসবে মালাখি: ৪:৫-৬ পদ পড়লে দেখা যায়। যিশাইয় ৬:৭ পদ সত্যিকার উপাসনার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। পাপ থেকে মন পরিবর্তন মানুষের জীবনে সত্যিকার উপবাস ও নম্রতা নিয়ে আসে। ৫৮ অধ্যায় প্রকৃত উপবাস এর বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা যদি আমাদের দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো অনেক ব্যক্তি আছে যারা না খেয়ে থেকে নিজের শরীরকে কষ্ট দেয় উপবাস করে, নামাজ বা প্রার্থনা করে কিন্ত তাদের জীবনে কি কোন পরিবর্তন আছে? আমাদের সেই সকল ভাই বোনদের জীবনে কোন পরিবর্তন নেই। কিন্তু আমাদের সদাপ্রভু তিনি আমাদের দুষ্টতার গাট সকল খুলে দিতে বলে আমাদের মনকে পরিবর্তন করতে বলেছেন। মন্দতা ভিতরে রেখে লোক দেখিয়ে না খেয়ে শরীরকে আমাদের কষ্ট দিয়ে কি লাভ হবে ? আসল কষ্ট বা চেতনা আমাদের হৃদয় থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

যিশাইয় তার ৫৮ অধ্যায় ৬ পদ বলে আমার মনোনতি উপবাস কি এই নয় ? ৫৮: ৫-৬ পদ আমার মনোনীত উপবাস কি এই প্রকার? মনুষ্যের আপন প্রাণকে দুঃখ দিবার দিন কি এই প্রকার? নলের ন্যায় মস্তক হেট করা এবং চট ও ভস্ম পতিয়া বসা, তুমি কি ইহাকেই উপবাস এবং সদাপ্রভুর প্রসন্নতার দিন বল? আমার মনোনীত উপবাস কি এই নয়? দুষ্টতার গাঁট সকল খূলিয়া দেওয়া, জোঁয়ালির খিল মুক্ত করা, এবং দলিত লোকদিগকে স্বাধীন করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া, ও প্রত্যেক জোঁয়ালি ভগ্ন করা কি নয়?

৫৯ অধ্যায়ে ঈশ্বর মানুষের জীবনের পাপ কি কি তা তিনি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ৫৯:১-৮পদ তা স্বীকার করে পরিত্রাণ লাভ করার কথা প্রকাশ করেছেন। ৫৯:১-৮ পদ পড়লে দেখা, তিনি অর্থাৎ ঈশ্বর বলেছেন আমার হস্ত এমন খাটো নয় যে আমি পরিত্রাণ করতে পারি না —–। তিনি আমাদের পরিত্রাণ করতে চান কিন্তু পারেন না, আমাদের পাপ হেতু। আমাদের আর্শিবাদ করতে চান, কিন্তু পারেন না অবাধ্যতার কারণে। কারণ ঈশ্বর বলেছেন আমি পবিত্র তোমরা পবিত্র হও। দ্বিতীয় তিনি বলেছেন: তোমাদের অপরাধ সকল তোমাদের ঈশ্বরের সহিত তোমাদের বিচ্ছেদ জন্মিয়াছে, এই জন্য তিনি শুনেন না। ৫৯:৩ পদ বলে বস্তুতঃ তোমাদের করতল রক্তে ও তোমাদের ওষ্ঠ মিথ্যা কথা কহিয়াছে, তোমাদের জিহব্বা দুষ্টতার কথা কহে। পৃথিবীর মানুষ মাত্র পাপী। আমরা মানুষ নিজেরা একটা অন্যায় করে সেটা ঢাকার জন্য অন্যের ঘাড়ে আমাদের দোষটা চাপিয়ে দিই অথবা একটা অন্যায় করে সেটা ঢাকার জন্য আরো অনেক অন্যায়ের আশ্রয় নিই। ৪পদ, কেহ ধার্মিকতার অভিযোগ করে না, কেহ সত্যে হেতুবাদ করেনা, তাহারা অবুস্তুতে নির্ভর করে, ও মিথ্যা কথা কহে, অনিষ্ঠ গর্ভে ধারণ করে, অন্যায় প্রসব করে। তাহারা কাল সর্পের ডিম ফুটায়। ১৬ পদ বলে আর সদাপ্রভু দৃষ্টিপাত করিলেন,ন্যায়বিচার না থাকাতে অসুন্তুষ্ট হইলেন। তিনি দেখিলেন, কোন পুরুষ বর্তমান নাই: এবং চমকিত হইলেন, কেননা অনুরোধকারী কেহ নাই; এই হেতু তাঁহারই বাহু তাঁহার জন্য পরিত্রাণ সাধন করিল, তাঁহারই ধর্মশীলতা তাহাকে তুলিয়া ধরিল। কি দুর্ভাগ্য আমাদের যে পাপ হেতু অনুরোধ করার জন্য আমাদের মহান ঈশ্বর কোন পুরুষকে পাননি। কেননা সকলে পাপ করেছে এবং বিকার প্রাপ্ত হয়েছে। ১৭-১৮পদ ধর্মশীলতার বুকপাটা বাধতে বলেছেন কারণ এক মুক্তি দাতা আসছেন। অর্থাৎ উপস্থিত সুধি আমরা যদি যিশাইয় ৫৮/৫৯/৬০ অধ্যায়টি পুরো পড়ি তাহলে আমরা একটা ধারা বাহিকতা দেখতে পাবো কোন কিছু রান্না করার আগে যেমন, তরকারি কিনতে হয় কাটতে হয়, ধুয়ে পরিস্কার করতে হয়, তার পরে রান্না করতে হয়। আর আমরা জানি রান্না করতে লাগে বিভিন্ন উপকরণ যেমন মসলা, তেল, লবন, হলুদ ইত্যাদি তেমনি ভাবে এই তিনটি অধ্যায়ে আমাদের বুঝায়:-
১। ঈশ্বরের সেবা করলে তার ফল কি লাভ করা যায়?
২। মানুষের পাপ এবং ঈশ্বরের পরিত্রাণ কি?
৩। পরিশেষে মশিহের আগমণ ইস্রায়েল কুশল, সুচিতা ও সুখ।

একজন ব্যক্তিকে জীবনে বেঁচে থাকতে গেলে এবং সুখ লাভ করতে গেলে কি কি পরিশ্রম করতে হয় ? যেমন: যে কোন বিজয় অর্জন করতে গেলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সেনা বাহিনীর ভাষায় বলা হয়, কঠিন পরিশ্রম সহজ বিজয়। ছাত্র ছাত্রীরা পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য যেমন অনেক অধ্যায়ন করে, না পড়লে যেমন ভাল ফলাফল তারা লাভ করতে পারেনা তদ্রুপ ভাবে যদি আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই পাপের ক্ষমা লাভ করতে চাই ? স্বর্গে যেতে চাই? সুখী হতে চাই? পৃথিবীতে শান্তিতে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে চাই ? পারিবারিক জীবনে সুখী হতে চাই? একটা ভাল চাকরী পেতে চাই? ভাল স্বামী বা গুনবতী স্ত্রী পেতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের জেরুশালেম মত জেগে উঠতে হবে। আমাদের হৃদয়কে প্রস্তুত করতে হবে। আর তাহলেই ঈশ্বরের আর্শিবাদ আমাদের জীবনে লাভ করতে পারব। ধন্যবাদ

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখতে এখানে ক্লিক করুন