প্রবন্ধ

পবিত্র বাইবেলের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিকের মূল্যায়ন কিরুপ

শ্রম ও শ্রমের মূল্যায়ন

যিশাইয় ভাববাদী তাঁর পুস্তকে ২২:১৩ পদে এই কথা বলেছেন, “ধিক তাহাদের যে অধর্ম দ্বারা আপন বাটী ও অন্যায় দ্বারা আপন উচ্চ কুঠরী নির্মান করে, যে বিনা বেতনে আপন প্রতিবাসীকে খাঁটায় এবং তাহার শ্রমের ফল দেয় না”।

পবিএ শাস্ত্রের এই বাক্য দ্বারা পরিস্কার ও সুস্পষ্টভাবে এই সত্য প্রকাশ করা হয়েছে- শ্রম দিলে বা প্ররিশ্রম করলে তার মূল্য পরিশোধ অব্যশই করতে হবে। আমরা জানি সকল মানুষই শ্রমিক অথ্যাৎ শ্রম দিয়ে থাকে বা প্ররিশ্রম  করে থাকে।

বিনিময়ে সে বাতন বা মূল্য পায়। এটি শুরু হয়েছিল আদম-হবা যখন এদোন-উদ্যান থাকা বিতারিত হন তারপর থেকে। ঈশ্বর আদম কে বলেছিলেন আদিপুস্তক ৩:১৯ পদ, “তুমি ঘর্ম্মাক্ত মুখে আহার করিবে, যে পর্যন্ত তুমি মৃত্তিকায় পরতিগমন না করিবে, তুমি তো তাহা হইতে গৃহিত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিবে”।
সেই থেকে মানুষের শ্রম দেয়া শুরু হয়েছিল এবং শ্রমের বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হয়।

শ্রম ও শ্রমিকের মূল্যায়ন-

শ্রম ও শ্রমিকের মূল্যায়ন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিএ বাইবেলে মানব জাতির কল্যানের জন্য সব ধরনের শিক্ষা, উপদেশ, পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বরের বাক্য আলোমানুষ্কে আলোকিত করবে। বাইবেল বলে শ্রম দিলে পর শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা তাকে দিতে হবে অন্যথা করা যাবে না। “পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠী”। বাইবেল বলে- পরিশ্রম ধন আনে, পরিপূর্ণতা নিয়ে আসে- জীবনে ও পরিবারে সুখ- স্বাচ্ছন্দ নিয়ে আসে। হিতঃ ২০:৫ পদের ১ম অংশ, “পরিশ্রমীর চিন্তা হইতে কেবল ধন লাভ হয়”। শ্রমিকের পরিশ্রমের ফল তাকে দিতে হবে, নতুবা সেটি পাপ, অন্যায়। বাইবেল এই সম্পকে সর্তক করে দিয়েছে। রাস্ট্রের দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে, কষ্ট হয় যখন বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিশ্রমের ন্যায্য পাওনা সঠিকভাবে পায় না তখন তারা রাস্তায় নেমে হরতাল করে, গারি ভাঙ্গচূর করে, আতঙ্ক সৃষ্টি করে, জনগনের যাতায়াতের সমস্যা হয় তখন খুব খারাপ লাগে। এটি কারও কাম্য নয়। এই ধরনের কাজে ঈশ্বর অসন্তষ্ট হন এবং ঈশ্বর এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। মোট কথা শ্রমিকদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করা যাবে না। যিনি শ্রম দেন বা যিনি শ্রমিক তাকে মনে রাখতে হবে তিনিও আপন প্রতিমুর্তিতে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং ঈশ্বরের চোখে তাঁর একজন সন্তান। জোর করে, অন্যায় করে, শ্রমিককে ঠকিয়ে বড়লোক বা ধণী হওয়া যায় না। যারা শ্রমিকদের ঠকায় বা নায্য পওনা দেয় না তারা ভাল মানুষ না। যদি কেহ শ্রমিককে কাজে ব্যবহার করে বেতন না দেয় এই রকম লোকদের কেহ পছন্দ করে না। সমাজে অনেক লোক আছেন যারা পরিশ্রম করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছ্ন। শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে হবে।

সমাজের যে কোন লোক যদি কাউকে কাজে ব্যবহার করে তবে তাকে তার প্রাপ্য মজুরি বা বেতন দিবে। কোনভাবেই অন্যথা করা যাবে না। আমরা জানি যাকোব যখন তার মামার বাড়িতে তার পশুপাল দেখাশুনা করতেন। সেই সময় লাবন অনেকবার তার বেতন অন্যথা করেছিল। এটি ঈশ্বর পছন্দ করেন নাই এবং যাকোব এতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তাকে প্রকৃত আর্শীবাদ করেছিলেন। পুরাতন নিয়মে মোশির সময়ে আমরা দেখি ঈশ্বরের মনোনীত লোকেরা মিশরে দাসত্ব করত, তাদের উপরে ফরৌণ ও তার লোকেরা অমানবিক আচরণ করেছিল, তাদের প্রতি অন্যায় করেছিল, তাদের বেশী কাজে ব্যবহার করত, কিন্তু তাদের পরিশ্রমের প্রকৃত বেতন বা মূল্য দেওয়া হতো না। ঈশ্বর এটি পছন্দ করেন নাই। যে কোন অন্যায়, অনৈতিক কাজ ঈশ্বর পছন্দ করেন না বরং এর প্রতিকার করে থাকেন। তাই ঈশ্বর তাদের এই অবস্থা থেকে উদ্দারের জন্য মোশীর মধ্য দিয়ে সুন্দর ব্যবস্থা করেছিলেন। কারণ ঈশ্বর তিনি পবিএ, ন্যায়বান, তিনি অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেন না। তিনি মানুষের প্রতি মানুষ অন্যায় করুক এটি চান না। তিনি এ ব্যাপারে সক্রিয়।
আমাদের সমাজে মালিক, প্রভু এবং শ্রমিক এই মনোভাব থাকা ভাল নয়। কারন শ্রমিকের জন্যই মালিক বা প্রভু সম্মানিত হন, লাভবান হন এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন। তাই শ্রমিকের পরিশ্রমের মূল্য তাকে সঠিকভাবে দিতে হবে। সাধু পৌল নিজে শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে নিজের ভরণপোষণ করতেন এবং ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য অর্থ ব্যয় করতেন। যারা পরিশ্রম করে তাদের কোন অভাব হয় না। সকলকে শ্রম দিতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। তাই শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন দিতে হবে। আজও পৃথিবিতে এমন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী আছেন যারা তাদের পরিশ্রম দ্বারা অর্জিত অর্থ প্রভুর রাজ্যের জন্য  ব্যয় করে থাকেন। সবশেষে, এই কথা বলতে চাই শ্রম- শ্রমিকের মূল্য সব সময় দিতে হবে। তাই ত আজও পৃথিবীর সকল দেশেই ১ লা মে শ্রমিকদের আত্ন-ত্যাগের কথা স্মরণ করে সেই দিন পালিত হয়ে আসছে। ১ লা মে শ্রমিক দিবস ও একটি ঐতিসাসিক দিন। মনে রাখতে হবে যারা শ্রম দিবে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তাহলে তাদের ছোট করা হবে। শ্রমিকদের কথা স্মরণ করে কিন্তু শ্রমিক দিবস পালন করা হয় এবং এর গুরুত্ব প্রচার করা হয়। এই দিন সরকারী ছুটির দিন থাকে। সুতরাং আমাদের সকলকে শ্রম- শ্রমিকদের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে এবং শ্রমিকদের পরিশ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে। তাদের তুচ্ছ বা অবহেলা করা যাবে না।

সংগ্রহঃ নবযুগ, লেখকঃ রিচার্ড,টি,মধু

আপনার মন্তব্য দিন

Click here to post a comment

রেডিও